Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, এপ্রিল 6, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » নেতানিয়াহুর সামনে যুদ্ধের চেয়েও বড় সংকট: জাতীয় ঐক্য
    আন্তর্জাতিক

    নেতানিয়াহুর সামনে যুদ্ধের চেয়েও বড় সংকট: জাতীয় ঐক্য

    হাসিব উজ জামানএপ্রিল 5, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ যত লম্বা হচ্ছে, ইসরায়েলের ভেতরের রাজনৈতিক সংহতি, সামাজিক ঐক্য এবং নেতৃত্বের ওপর মানুষের আস্থাও ততটাই পরীক্ষার মুখে পড়ছে। যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে দেশটির ভেতরে যে দৃঢ়তা, একতা এবং লক্ষ্য-নির্ভর মানসিকতা দেখা গিয়েছিল, এখন তার জায়গায় ধীরে ধীরে প্রশ্ন, সন্দেহ এবং অস্বস্তি জমতে শুরু করেছে। বাইরে যুদ্ধ চলছে ঠিকই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আরেক ধরনের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    পাসওভার উপলক্ষে এই সপ্তাহের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতির উদ্দেশে এক বক্তব্য দেন। সেই ভাষণে তিনি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রতীকের আশ্রয় নেন এবং প্রাচীন ইহুদি বিজয়ের স্মৃতি টেনে বর্তমান যুদ্ধকে এক ধরনের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি এমনকি ইসরায়েলের শত্রুদের বিরুদ্ধে সামরিক আঘাতকে সেই দশ দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করেন, যা ধর্মীয় বর্ণনায় মিশরের ওপর নেমে এসেছিল ইসরাইলিদের মুক্তির সময়। তাঁর ভাষণে ছিল দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস এবং বিজয়ের সুর। তিনি বলেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা বদলে দিয়েছে।

    কিন্তু তাঁর সেই উচ্চকণ্ঠ আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক ভিন্ন দৃশ্য সামনে আসে। ইরান এই সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলোর একটি চালায়। উৎসবের আবহ মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। নেতানিয়াহুর ভাষণের বিজয়ী সুর আর যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার মধ্যে যে গভীর ফারাক রয়েছে, সেটি তখন চোখে আঙুল দিয়ে দেখা যায়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ চললেও পরিস্থিতি এখনো এমন জায়গায় পৌঁছেনি, যেখানে নির্ভয়ে বিজয়ের ঘোষণা দেওয়া যায়।

    এই অবস্থায় বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহুর ভাষণকে অহংকারপূর্ণ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যুদ্ধ শুরুর আগে যেমন খামেনির নেতৃত্বাধীন ইরান ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছিল, এক মাস পরও বাস্তবতার দিক থেকে খুব বেশি কিছু বদলায়নি। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন, বরং তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্যই দেখাতে পারছেন না।

    এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি আসলে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতারই প্রতিফলন। যুদ্ধের শুরুতে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা এখন আর আগের মতো অটুট নেই। দেশটির সাধারণ মানুষ এখনো যুদ্ধকে সমর্থন করে—এমন তথ্য একাধিক জরিপে এসেছে—কিন্তু একইসঙ্গে যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব কি না, সেই বিশ্বাস দ্রুত কমছে।

    ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক জরিপ অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে প্রায় ৭০ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করতেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি অভিযানের ফলে ইরানের শাসনব্যবস্থা হয় ভেঙে পড়বে, না হয় বড়ভাবে দুর্বল হবে। এখন সেই হার নেমে এসেছে ৪৩.৫ শতাংশে। একইভাবে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়ে মানুষের আস্থা ৬২ শতাংশ থেকে কমে ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে অক্ষম করে দেওয়ার প্রত্যাশা ৭৩ শতাংশ থেকে নেমে ৫৭ শতাংশে এসেছে। লেবাননে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা যাবে কি না, সে প্রশ্নেও ইসরায়েলি জনমত প্রায় সমান দুই ভাগে বিভক্ত।

    এই পরিসংখ্যানগুলো শুধু জনমতের পরিবর্তন নয়, বরং যুদ্ধের রাজনৈতিক ভাষ্য এবং বাস্তব ফলাফলের মধ্যকার ব্যবধানও প্রকাশ করে। যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে মানুষের মধ্যে একটি পরিষ্কার বিশ্বাস ছিল—এই লড়াইয়ের একটি বড় ফল হবে। এখন সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরছে। মানুষ হয়তো এখনো লড়াইকে প্রয়োজনীয় মনে করছে, কিন্তু ক্রমশই জানতে চাইছে—শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য কী, তার মূল্য কত, এবং সত্যিকারের সাফল্য বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে।

    অভিজ্ঞ সাংবাদিক আভি ইসাখারফ, যিনি জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ফাউদা’-র স্রষ্টাও, এ প্রসঙ্গে লিখেছেন যে নেতানিয়াহু ইসরায়েলকে এমন এক যুদ্ধে নিয়ে গেছেন, যা শুরুতে বহু মানুষের কাছে ন্যায্য বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু পরে তিনি সেটিকে এমন অবস্থায় দাঁড় করিয়েছেন যার আসল উদ্দেশ্য এবং সমাপ্তির রূপরেখা অনেকেই আর বুঝতে পারছেন না। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর এক পুরোনো রাজনৈতিক প্রবণতা আবারও সামনে এসেছে—লক্ষ্যের দিকে মনোযোগী থাকার বদলে আগেভাগেই বিজয়ের ভাষা ব্যবহার করা।

    যুদ্ধ নিয়ে মানুষের বিশ্বাস কমে যাওয়ার পেছনে শুধু সামরিক পরিস্থিতি দায়ী নয়। দেশের ভেতরের সাম্প্রতিক নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপও এই অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। গত সপ্তাহান্তে নেতানিয়াহুর জোট সরকার ২০২৬ সালের একটি বিতর্কিত বাজেট পাস করেছে, যা কার্যত সরকারকে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার পথ খুলে দিয়েছে। সেই সময়েই নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু এই বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নেতানিয়াহুর অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় মিত্রদের জন্য, যারা তাঁর জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। অন্যদিকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কাটছাঁট করা হয়েছে, আর বাড়ানো হয়েছে করের চাপ।

    ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীরা বলছে, এই বাজেট জাতীয় প্রয়োজনের চেয়ে রাজনৈতিক টিকে থাকার হিসাবেই বেশি রচিত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট একে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেপরোয়া এবং জাতীয় চেতনার পরিপন্থী বাজেট বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর এই সমালোচনার মধ্যে শুধু বিরোধী রাজনীতির ভাষা নেই; বরং একটি বড় উদ্বেগও আছে—যুদ্ধের সময়েও কি রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত রাজনৈতিক জোট বাঁচিয়ে রাখা, নাকি সামগ্রিক জাতীয় সক্ষমতা রক্ষা করা?

    আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিয়ে। নেতানিয়াহুর সরকার এমন একটি আইন এগিয়ে নিচ্ছে, যা আল্ট্রা-অর্থডক্স ধর্মীয় পুরুষদের জন্য বিদ্যমান সামরিক ছাড়কে আরও স্থায়ী রূপ দিতে পারে। কিন্তু একই সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেই বলছে, যুদ্ধের মধ্যে তাদের প্রায় ১৫,০০০ সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে। গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং এখন ইরান—এই বহুমুখী যুদ্ধের ভার সবচেয়ে বেশি বহন করছে রিজার্ভ বাহিনী। গত আড়াই বছরে অনেক রিজার্ভ সদস্যকে বারবার ডাকা হয়েছে, এবং তাদের কারও কারও মোট দায়িত্বপালনের সময় শত শত দিনে পৌঁছে গেছে।

    এই বাস্তবতায় একটি নৈতিক প্রশ্ন খুব জোরালো হয়ে উঠেছে: যখন একদল নাগরিক ক্রমাগত যুদ্ধের ভার বইছে, তখন আরেকদলকে আইনি বা রাজনৈতিকভাবে ছাড় দেওয়া কতটা ন্যায়সঙ্গত? সেনাবাহিনীর প্রধান এইয়াল জামির নাকি মন্ত্রিসভাকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি আল্ট্রা-অর্থডক্সদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় আনা না হয় এবং বর্তমান সেবায় নিয়োজিতদের ওপর দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়, তাহলে সেনাবাহিনীর কাঠামোই ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এটি নিছক প্রশাসনিক সতর্কবার্তা নয়; এটি যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রীয় সামর্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগের প্রকাশ।

    সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটও তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এক হাতে যারা সেনাসেবা এড়িয়ে যাচ্ছে তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে, আর অন্য হাতে যারা দায়িত্ব পালন করছে তাদের ওপর সেবার মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই সমালোচনার ভেতরেই যুদ্ধের সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রশ্নটি লুকিয়ে আছে—রাষ্ট্র কি সবার কাছ থেকে সমান ত্যাগ চাচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক দরকষাকষির কারণে ভিন্ন ভিন্ন নাগরিকের জন্য ভিন্ন নিয়ম চালু করছে?

    এদিকে আরেকটি আইন ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ছে। ফিলিস্তিনিদের সন্ত্রাসী হামলার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে বিল আনা হয়েছে, সেটি কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের জোরাজুরিতেই সামনে এসেছে। নেতানিয়াহুও এই বিলকে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এটি শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন বাড়াবে না, বরং ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতাও আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। বামপন্থী নেতা ইয়াইর গোলান সতর্ক করে বলেছেন, নেতানিয়াহু, বেন গভির এবং চরমপন্থীদের এই নীতির কারণে দেশ এমন এক নিষেধাজ্ঞামূলক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হতে পারে, যা অর্থনীতি, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

    অর্থাৎ, যুদ্ধ এখন কেবল সীমান্তের লড়াই নয়; এটি রাষ্ট্রের ভেতরের মূল্যবোধ, ন্যায়বোধ, গণতান্ত্রিক চরিত্র এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানেরও পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।

    সবকিছুর পাশাপাশি নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত আইনি সংকটও আলোচনার বাইরে থাকেনি। জালিয়াতি, ঘুষ এবং আস্থাভঙ্গের অভিযোগে চলমান তাঁর বিচার বহুদিন ধরেই ইসরায়েলের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক-আইনি ঘটনাগুলোর একটি। যুদ্ধের মধ্যেও তাঁর ক্ষমা পাওয়ার প্রচেষ্টা আলোচনায় ছিল। গত নভেম্বর মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, যাতে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ করা যায়।

    এই প্রচারাভিযানের বড় সমর্থকদের একজন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে, ৫ মার্চ তিনি ‘অ্যাক্সিওস’-কে বলেন যে হারজগের উচিত নেতানিয়াহুকে “আজই” ক্ষমা করা। বিলম্বের জন্য তিনি হারজগকে কড়া ভাষায় আক্রমণও করেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল—নেতানিয়াহুর মন যেন যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ব্যস্ত না থাকে। একটি চলমান যুদ্ধে যুক্ত দুটি রাষ্ট্রের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি একদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন, অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের প্রতি চাপের ইঙ্গিত বহন করে।

    তবে নেতানিয়াহুর বিচার এমন একটি মামলা, যেখানে বিচার শেষ হওয়ার আগে ক্ষমা দেওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে। ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে হারজগকে এমন পদক্ষেপ না নিতে পরামর্শ দিয়েছে। কারণ এখনো কোনো চূড়ান্ত দণ্ড হয়নি, নেতানিয়াহু অপরাধ স্বীকার করেননি, অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি। আইনজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে তাঁকে ক্ষমা করা হলে সেটি সর্বোচ্চ আদালতে কঠিন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

    নেতানিয়াহু অবশ্য বারবার বলেছেন, ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপ তিনি আয়োজন করেননি। তবে দুই ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে সমন্বয় করেই হয়েছে। ১৯ মার্চ জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু সেটি স্পষ্টভাবে অস্বীকারও করেননি। বরং তিনি বলেন, ট্রাম্প হৃদয়ের গভীর তাগিদ থেকেই কথা বলেছেন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার রাখেন।

    সব মিলিয়ে এখনকার বাস্তবতা হলো—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ইসরায়েলকে শুধু সামরিকভাবে নয়, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং নৈতিক দিক থেকেও কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে। যুদ্ধের শুরুতে যে স্পষ্টতা ছিল, তা এখন আর ততটা নেই। বরং সামনে এসেছে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন। সরকার কি যুদ্ধকে কৌশলগত লক্ষ্যে এগিয়ে নিচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধের আবহ ব্যবহার করছে? জনগণের ত্যাগ কি সমানভাবে ভাগ হচ্ছে, নাকি নির্বাচনী জোট টিকিয়ে রাখার স্বার্থে একাংশকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে? যুদ্ধ কি সত্যিই নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে, নাকি দীর্ঘ সংঘাত রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো আরও দৃশ্যমান করে তুলছে?

    এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই ঠিক করে দেবে, যুদ্ধ শেষে ইসরায়েল নিজেকে বিজয়ী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে পাবে, নাকি ক্ষত-বিক্ষত এক সমাজ হিসেবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    যুদ্ধের প্রভাবে থমকে গেছে ত্রাণ সরবরাহ, গভীর হচ্ছে মানবিক সংকট

    এপ্রিল 5, 2026
    আন্তর্জাতিক

    যে কারণে ইরানের সামনে ব্যর্থ হচ্ছে আমেরিকা

    এপ্রিল 5, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরানকে ভাঙার স্বপ্ন কি আবারও ভুল প্রমাণিত হচ্ছে?

    এপ্রিল 5, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.