গাজায় চলমান সহিংসতা এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদে সিরিয়াজুড়ে ব্যাপক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে নতুন এক ইসরায়েলি আইনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যা ফিলিস্তিনি বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
শুক্রবার বিকেল থেকে রাজধানী দামেস্কে বিক্ষোভ শুরু হয়ে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দারা, কুনেইত্রা, আলেপ্পো, লাতাকিয়া, হোমস ও ইদলিবসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। পাশাপাশি ইয়ারমুক শরণার্থী শিবির ও খান আল-শেখসহ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোতেও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা মিছিল, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং ছাত্র সমাবেশের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। বিভিন্ন স্থানে তারা ফিলিস্তিনি ও সিরীয় পতাকা বহন করেন এবং বন্দীদের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে স্লোগান দেন।
আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে “ফিলিস্তিনি বন্দীরা শুধু সংখ্যা নয়” এবং “বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন। সমাবেশে “রক্ত দিয়ে হলেও ফিলিস্তিনকে মুক্ত করব” এবং “ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দাও”—এমন স্লোগানও শোনা যায়।
দক্ষিণ সিরিয়ায় গোলান মালভূমি সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে কুনেইত্রা অঞ্চলে বিক্ষোভকারীরা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অগ্রসর হলে ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে।
একই দিনে কুনেইত্রার গ্রামাঞ্চলে একটি গাড়িতে গোলাবর্ষণের ঘটনায় গাড়িতে থাকা কয়েকজন নিহত হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়টি বলেছে, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করার দায়ে ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা এটিকে ধারাবাহিক লঙ্ঘনের অংশ বলেও উল্লেখ করেছে।
দারাতেও বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন এবং ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামকে সিরিয়ার নিজস্ব দখলদারিত্বের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।
সব মিলিয়ে, গাজা ইস্যু ও নতুন আইনের প্রতিবাদে সিরিয়াজুড়ে এই বিক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

