লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে যে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বসতি, সৈন্য, সামরিক যানবাহন এবং ঘাঁটির বিরুদ্ধে ৬০টি হামলা চালিয়েছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ
লেবাননভিত্তিক এই গোষ্ঠী ধারাবাহিক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলার জবাবে “দেশ ও জনগণের প্রতিরক্ষায়” তারা এসব অভিযান পরিচালনা করছে।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চের পর থেকে মোট হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,২৫০-এ। সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে উত্তর ইসরায়েলের অন্তত ছয়টি বসতি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর মধ্যে কিরিয়াত শমোনা ও মেতুলায় একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া ইভেন মেনাহেম, বেইত হিলেল, আভিভিম ও নাহারিয়াতেও হামলার কথা জানানো হয়।
হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, তারা ৪০টি স্থানে ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানবাহনের সমাবেশে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ লেবানন সীমান্ত এবং উত্তর ইসরায়েলের অভ্যন্তরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। মালকিয়া, ইর’অনসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের রামিয়ে আকাশে একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যার ফলে সেটি পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এছাড়া খিয়াম ও কানতারা এলাকায় দুটি মেরকাভা ট্যাংক এবং দক্ষিণ লেবাননের তাহরির ট্রায়াঙ্গেলে একটি ডি৯ বুলডোজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবি করা হয়েছে।
উত্তর ইসরায়েলের অন্তত সাতটি সামরিক স্থাপনাও হামলার আওতায় আসে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। এর মধ্যে কিরিয়াত আতা, ক্রায়োত ও কারমিয়েল অঞ্চলের অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলা ও সংঘর্ষে দুই সেনাসদস্যসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
২ মার্চ সীমান্ত অতিক্রম করে হামলার পর থেকে ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযানও শুরু করেছে। লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১,৩৪৫ জন নিহত এবং ৪,০৪০ জন আহত হয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

