পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। খাইবার প্রদেশে গত ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনাই এসব প্রাণহানির মূল কারণ। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস ও ঘরবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। মোট ৪৫ জন নিহতের মধ্যে ২৩ জনই শিশু, যা পুরো প্রদেশে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। এছাড়া নিহতদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী রয়েছেন। আহতদের তালিকায়ও শিশুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য—১০০ জনের বেশি আহতের মধ্যে ৪৪ জনই শিশু।
টানা বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি জেলাগুলোতে ঘরবাড়ি ধসে পড়ছে। অনেক পরিবার রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছে। পিডিএমএ-র তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৪৪০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েক ডজন বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে করে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
দুর্গত এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকা ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক জায়গায় এখনো সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। পিডিএমএ জানিয়েছে, আগামী ৬ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত আবারও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়াতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংবেদনশীল ও পর্যটন এলাকাগুলোতে ভ্রমণ না করার জন্য পর্যটকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের চরম আবহাওয়া ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন এই ধরনের দুর্যোগকে আরও প্রাণঘাতী করে তুলছে। তাই শুধু তাৎক্ষণিক উদ্ধার নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে

