মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কঠোর অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত থাকলে আরও ভয়াবহ ও বিস্তৃত প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার পুনরাবৃত্তি হলে ইরানের প্রতিশোধমূলক অভিযান আরও তীব্র ও বিধ্বংসী আকার ধারণ করবে।
খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর দেশটির সর্বোচ্চ অপারেশনাল সামরিক কমান্ড ইউনিট হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরবর্তী ধাপের সামরিক পদক্ষেপ হবে আরও বিস্তৃত ও আক্রমণাত্মক।
এদিকে বিবিসি ফার্সি–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোর থেকে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর নিকটবর্তী একটি গ্যাস স্টেশন।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি সংঘাতকে আরও জটিল করে তোলার আশঙ্কাও তৈরি করছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সময় বেঁধে দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে সমঝোতায় না এলে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক তৎপরতায় অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখনই স্পষ্ট না হলেও নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

