ইরানে চলমান সংঘাতের মধ্যে আবারও বড় ধরনের ধাক্কার খবর সামনে এসেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল সৈয়দ মজিদ খাদেমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের তথ্য উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোরে পরিচালিত একটি যৌথ হামলায় খাদেমি নিহত হন। এই হামলাকে তারা সরাসরি “সন্ত্রাসী হামলা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে হামলার স্থান, পদ্ধতি বা অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ইতোমধ্যেই ভয়াবহ উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সেই হামলার পরবর্তী সময় থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও—যা পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলেছে।
এই হামলার জবাবে ইরানও বসে থাকেনি। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেশটি ইসরাইল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, কৌশলগত দিক থেকেও চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে তেহরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যু ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর জন্য বড় ধরনের আঘাত। একইসঙ্গে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংঘাত এখন শুধু সীমান্ত বা প্রতীকী হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—বরং তা ধীরে ধীরে আরও গভীর ও বিস্তৃত রূপ নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখনই বলা কঠিন—তবে নতুন করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট।

