মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন এক কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পৌঁছেছে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, যা অঞ্চলজুড়ে শান্তির নতুন আশা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এই প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উঠে এসেছে।
প্রস্তাবটি আপাতত ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ নামে পরিচিত হচ্ছে, যা থেকে বোঝা যায় এতে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সূত্র বলছে, পাকিস্তানই এই প্রস্তাবের রূপরেখা তৈরি করে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ প্রকাশ্যে কিছু বলেনি।
চুক্তির কাঠামোটি মূলত দুই ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে, যা কার্যকর হলে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হতে পারে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দিকে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সোমবারই এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে একই দিন থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। যুদ্ধ থামলে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে—বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আবারও জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে বলে জানা গেছে।
তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব নিয়ে এখনো পর্যন্ত ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইভাবে, প্রস্তাবের মূল উদ্যোক্তা হিসেবে আলোচিত পাকিস্তানও এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

