যুদ্ধের সময় বড় বড় স্থাপনায় হামলার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু সব স্থাপনা একই রকম নয়। কিছু অবকাঠামো আছে, যেগুলো ধ্বংস হলে ক্ষতি শুধু সামরিক বা কৌশলগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; তার প্রভাব পড়ে মানুষের জীবন, পরিবেশ, খাদ্যনিরাপত্তা, পানির উৎস, এমনকি বহু দেশের ভবিষ্যতের ওপর। ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সেই ধরনের একটি স্পর্শকাতর স্থাপনা। এ কারণেই এটিকে ঘিরে উদ্বেগ শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও টিকে থাকার প্রশ্ন।
৫ এপ্রিল ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহর চলমান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের মধ্যে একাধিকবার হামলার মুখে পড়েছে। শনিবার সর্বশেষ হামলায় কেন্দ্রটির কাছাকাছি একটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে একজন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন এবং একটি পাশের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বুশেহর স্থাপনাটি চারবার বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছে। এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, এর ভেতরে রয়েছে এমন এক বাস্তব আশঙ্কা, যার প্রভাব ইরানের সীমানার অনেক বাইরে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বুশেহর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
বুশেহরকে শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত গুরুত্ব বোঝা যাবে না। এটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এবং বর্তমানে এখানে একটি কার্যকর চুল্লি চালু আছে। উপকূলীয় বুশেহর শহরে অবস্থিত এই কেন্দ্রের আশেপাশে প্রায় ২৫০,০০০ মানুষের বসবাস। এই প্রকল্পের কাজ প্রথম শুরু হয় ১৯৭৫ সালে জার্মান কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে, আর পরে রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি মন্ত্রণালয় এটি সম্পন্ন করে ২০১১ সালে। এখনো সেখানে শত শত রুশ কর্মী অবস্থান করছেন, যদিও সাম্প্রতিক হামলার পর তাদের কিছু অংশকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বুশেহর-১ জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রায় ১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছে। আরও দুটি অতিরিক্ত চুল্লি ২০২৯ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা। অর্থাৎ এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত স্থাপনা নয়, জাতীয় বিদ্যুৎ নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ। ফলে এখানে হামলা হলে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি বিদ্যুৎ, শিল্প, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
আসল ভয় কোথায়
পারমাণবিক স্থাপনার কথা উঠলেই সাধারণত মানুষের মনে বিস্ফোরণের ভয় আসে। কিন্তু বুশেহরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো বিকিরণ ছড়িয়ে পড়া। যদি চুল্লি বা ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণের পুলে আঘাত লাগে, তাহলে বায়ুমণ্ডলে বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয় কণা ছড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে কেজিয়াম-১৩৭-এর মতো ক্ষতিকর উপাদান বাতাস ও পানির মাধ্যমে বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে খাদ্য, মাটি এবং পানির উৎসকে দীর্ঘ সময়ের জন্য দূষিত করতে পারে। কাছাকাছি অবস্থানে থাকা মানুষের ত্বক পুড়ে যাওয়া, অসুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এখানেই বুশেহরের ঝুঁকি অন্য রকম। কারণ এ ধরনের বিপর্যয় সীমান্ত মানে না। যুদ্ধের আঘাত যেখানে লাগুক, বিকিরণের ধোঁয়া, বাতাসে ভেসে যাওয়া কণা বা দূষিত পানি খুব দ্রুত অন্য অঞ্চলে পৌঁছে যেতে পারে। তাই এই কেন্দ্রকে ঘিরে ভয় শুধুই ইরানের নয়, বরং পার্শ্ববর্তী সব দেশের জন্যও বাস্তব।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থার সতর্কতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বহুদিন ধরেই বুশেহরকে লক্ষ্য করে হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছে। গত বছর ইসরায়েল ও ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বলেছিলেন, বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি হামলা হলে তা একটি আঞ্চলিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। তাঁর মতে, এখানে থাকা বিপুল পারমাণবিক উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হলে খুব উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার ফল শুধু ইরান নয়, সীমান্তের বাইরের দেশগুলোকেও ভুগতে হবে।
তিনি আরও সতর্ক করেছিলেন যে শুধু চুল্লিতে সরাসরি আঘাত করলেই বিপদ হবে, এমন নয়। কেন্দ্রটি ঠান্ডা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভয়াবহ গলন-দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তখন কয়েক শ কিলোমিটারের মধ্যে মানুষ সরিয়ে নেওয়া, আয়োডিন সরবরাহ, খাদ্য ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিকিরণ পর্যবেক্ষণের মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। এর মানে দাঁড়ায়, যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থাকা মানুষও হঠাৎ করে পারমাণবিক বিপর্যয়ের বাস্তবতায় পড়ে যেতে পারেন।
উপসাগরের পানিই কেন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা
বুশেহরকে ঘিরে ভয়াবহতার সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক হতে পারে পানিদূষণ। উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ভরসা করতে পারে না। তারা সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে পানযোগ্য পানি তৈরি করে। এখন যদি বুশেহর থেকে তেজস্ক্রিয় দূষণ সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে শুধু সামুদ্রিক প্রাণী বা পরিবেশ নয়, মানুষের পানীয় জলের ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়বে।
সমস্যা হলো, অধিকাংশ লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছেঁকে ফেলার জন্য তৈরি নয়। ফলে দূষণের মাত্রা বাড়লে এই ব্যবস্থাগুলো অচল হয়ে যেতে পারে। তখন সংকট শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা সরাসরি জীবনধারণের প্রশ্নে পরিণত হবে।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক অ্যালান আইয়ার বলেছেন, বুশেহরে সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা হয়তো ১৯৮৬ সালের চেরনোবিলের মতো বিপর্যয় সৃষ্টি নাও করতে পারে, কিন্তু পানিতে বিকিরণ মিশে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি ভয়াবহ। কারণ একবার যদি সমুদ্রের পানিতে উল্লেখযোগ্য তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে লবণমুক্তকরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর একবার যদি পানির উৎস থেমে যায়, তাহলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে মানবিক সংকট তৈরি হতে সময় লাগবে না।
গত বছর কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি বলেন, বুশেহরে বড় ধরনের হামলা হলে তার প্রভাব “আমাদের সবার” ওপর পড়বে। কাতার, যা ইরান থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার বা ১১৮ মাইল দক্ষিণে, একটি সম্ভাব্য হামলার প্রভাব নিয়ে হিসাব করেছিল। সেখানে দেখা যায়, সমুদ্র পুরোপুরি দূষিত হয়ে যেতে পারে এবং দেশটি তিন দিনের মধ্যে পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। তাঁর বক্তব্য ছিল অত্যন্ত কঠিন কিন্তু স্পষ্ট—পানি থাকবে না, মাছ থাকবে না, কিছুই থাকবে না, জীবনও থাকবে না। এই মন্তব্য আতঙ্কের ভাষা নয়, বরং বাস্তবতার নির্মম ব্যাখ্যা।
আন্তর্জাতিক আইন কী বলে
পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, এটি আন্তর্জাতিক আইনগত প্রশ্নও। জেনেভা কনভেনশনের অতিরিক্ত প্রথম অনুচ্ছেদের ৫৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, বিপজ্জনক শক্তিধারী স্থাপনা—যেমন পারমাণবিক স্থাপনা—লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো যাবে না, যদি তাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ভয়াবহ পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সহজ ভাষায় বললে, কোনো পক্ষ যদি জানে যে তার হামলার ফলে অসংখ্য বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে, তবু সে হামলা চালায়, তবে সেটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এখানে একটি বড় বিষয় হলো, বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। অর্থাৎ এটি সরাসরি বেসামরিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নীতিমালাও বলছে, চুল্লি, ব্যবহৃত জ্বালানি, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখা বাধ্যতামূলক। ফলে বুশেহরে হামলার প্রশ্ন কেবল সামরিক কৌশল নয়, মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও।
পশ্চিমা প্রতিক্রিয়া নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠছে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো যে পরিমাণ উদ্বেগ দেখিয়েছিল, বুশেহর নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। এই তুলনা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হলেও একে পুরোপুরি অস্বীকার করা কঠিন।
২০২২ সালের মার্চে রাশিয়া যখন জাপোরিঝঝিয়ায় হামলা চালায়, তখন যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেন জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরও বহু দেশ দ্রুত নিন্দা জানায়। উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট পর্যন্ত সতর্ক করেছিল, যদি তেজস্ক্রিয় দূষণ কোনো সদস্য রাষ্ট্রে পৌঁছে যায়, তাহলে তাদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে।
অন্যদিকে, বুশেহরের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নীরব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া অবশ্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ঘটনাটিকে নৃশংসতা বলে নিন্দা জানিয়েছে। এই পার্থক্য আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে সামনে আনে—পারমাণবিক নিরাপত্তার প্রশ্নে সব ক্ষেত্রেই সমান নৈতিক অবস্থান নেওয়া হয় না; অনেক সময় ভূরাজনীতি প্রতিক্রিয়ার ভাষা নির্ধারণ করে দেয়।
ইতিহাসের শিক্ষা: চেরনোবিল ও ফুকুশিমা
পারমাণবিক দুর্ঘটনার ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, তাৎক্ষণিক প্রাণহানি দিয়ে পুরো বিপর্যয়ের ভয়াবহতা মাপা যায় না। ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমায় ভূমিকম্পের পর চুল্লিগুলো গলে যায়। প্রায় ১৬০,০০০ মানুষকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে ২০১৮ সালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে জড়িত একজনের ফুসফুসের ক্যান্সারে মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়। তবে প্রকৃত ক্ষতি শুধু বিকিরণে সীমাবদ্ধ ছিল না; স্থানচ্যুতি, মানসিক আঘাত, ভয়, অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক ভাঙনও হাজারো মানুষের জীবন বদলে দেয়।
আর ১৯৮৬ সালের এপ্রিলের চেরনোবিল আজও বিশ্বের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তাগুলোর একটি। পরীক্ষার সময় একটি চুল্লি বিস্ফোরিত হয়, ভবনের ভারী ছাদ উড়ে যায়, কয়েকদিন ধরে আগুন জ্বলতে থাকে এবং বিপুল বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে। তখনই প্রায় ৩০ জন মারা যান। পরে প্রায় ২০,০০০ মানুষের, বিশেষত শিশুদের, থাইরয়েড ক্যান্সার হয়। ৩০০,০০০-এর বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়, আর সেই এলাকা আজও অনেকাংশে জনশূন্য। এই উদাহরণগুলো দেখায়, পারমাণবিক দুর্ঘটনা কেবল একটি দিনের ঘটনা নয়; এর অভিঘাত বহু বছর, কখনো কখনো বহু প্রজন্ম ধরে চলতে পারে।
বুশেহরকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি সামরিক সংঘর্ষের খবর নয়; এটি পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের বিষয়। কারণ এখানে প্রশ্ন শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নয়, বরং কোটি মানুষের পানি, খাদ্য, পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং টিকে থাকার শর্ত নিয়ে। যদি বুশেহরে বড় ধরনের ক্ষতি হয়, তার প্রভাব ইরানের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই কারণেই বুশেহর আজ শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়। এটি যুদ্ধের সীমা কোথায় হওয়া উচিত, আন্তর্জাতিক আইন কতটা কার্যকর, এবং মানবজীবনের নিরাপত্তা আদৌ কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে—সেসব প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। একটি হামলা অনেক সময় একটি দেশের ক্ষতি করে, কিন্তু পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। বুশেহর সংকট সেই কঠিন সত্যটিকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে।

