মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও, ইরান এবার স্পষ্ট করে দিয়েছে—চাপের মুখে কোনো সমঝোতায় তারা যাবে না। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিপরীতে নিজেদের অবস্থান ও দাবিগুলো চূড়ান্ত করেছে তেহরান।
সোমবার (৬ এপ্রিল) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি সরাসরি বলেন, কোনো ধরনের আলটিমেটাম বা যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিয়ে আলোচনায় বসানো হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
বাঘাইয়ের ভাষায়, ইরান সবসময়ই আলোচনার পক্ষে, তবে সেই আলোচনা হতে হবে সম্মানজনক এবং সমান অবস্থান থেকে। “চাপ সৃষ্টি করে বা ভয় দেখিয়ে কোনো চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া হলে, তা কখনোই টেকসই হবে না”—এমনই ইঙ্গিত দেন তিনি।
তিনি জানান, তেহরান ইতোমধ্যে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি নির্দিষ্ট শর্ত ও প্রয়োজনীয়তার তালিকা তৈরি করেছে। এই প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কী শর্ত রয়েছে, তা এখনো বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ১৫ দফার একটি পরিকল্পনা ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও জানান বাঘাই। তার মতে, ওই প্রস্তাব “অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক” ছিল এবং এতে ইরানের মৌলিক স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ইরান তার ন্যায্য দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে কখনোই পিছপা হয় না। তবে এটিকে কোনোভাবেই দুর্বলতা বা আপস হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি ইরানের নিজেদের অবস্থানের প্রতি দৃঢ় আস্থারই প্রতিফলন।
এদিকে, রাজধানী তেহরানের শহীদ বেহেস্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ভবনে সাম্প্রতিক হামলার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলার মধ্যেই এই কূটনৈতিক অবস্থানের কথা জানানো হলো। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক লড়াইও সমানতালে এগিয়ে চলছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব এখন কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে আগ্রহ ও অনিশ্চয়তা। ইরানের কড়া অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে আলোচনার পথ সহজ হবে না—তবে সম্ভাবনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

