মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাত নতুন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব এলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি গণমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, তেহরান এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছেই তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তারা কোনো সাময়িক বা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী নয়। বরং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা ছাড়া এই সংকটের কোনো বাস্তব সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছে তেহরান। তাই তারা জোর দিচ্ছে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের ওপর।
এই অবস্থানের মধ্যেই সংঘাত থেমে নেই। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে, পাশাপাশি ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এদিকে, ইরানের সামরিক নেতৃত্বও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যতদিন প্রয়োজন মনে করবে, ততদিন এই যুদ্ধ চলবে। সোমবার (৬ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, যুদ্ধের গতিপথ ও এর সমাপ্তি পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
তিনি আরও জানান, ইরানের লক্ষ্য হলো এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানো, যেখানে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই আগ্রাসনের জন্য শত্রুপক্ষকে অনুতপ্ত হতে হবে।
আকরামিনিয়ার ভাষায়, ইরান এমন একটি টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সংঘাতের মুখোমুখি হতে না হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান যে অবস্থান নিয়েছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। স্থায়ী সমাধানের দাবি একদিকে যেমন কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধের উত্তেজনাও কমার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

