ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ হামলায় ইসরায়েলের হাইফা শহরে একটি ভবনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির উদ্ধারকারী দল। সোমবার (৬ এপ্রিল) এই তথ্য জানানো হয়। হামলাটি চালানো হয় আগের দিন রোববার দিবাগত রাতে।
উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে প্রথমে ধ্বংসস্তূপ থেকে আশির বেশি বয়সী এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও কয়েক ঘণ্টা পর ৪০ বছর বয়সী একজন এবং ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ মরদেহটি উদ্ধার করতে হামলার প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় লেগেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
একই এলাকায় আজ ভোরে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যেখানে ব্যবহার করা হয় ক্লাস্টার ওয়ারহেড বা গুচ্ছবোমা। এই বোমাগুলো বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত চারজন আহত হন। পাশাপাশি ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
শুধু হাইফা নয়, ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলেও নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। গুচ্ছবোমার টুকরো ছড়িয়ে পড়ে বিশাল এলাকায়, যেখানে ১৫ থেকে ২০টি স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
পেটাহ তিকভা এলাকায় ৩৪ বছর বয়সী এক নারী গুচ্ছবোমার আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া তেল আবিবে কাচের টুকরার আঘাতে ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডাম (এমডিএ) জানিয়েছে, হামলার সময় লাখ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সতর্ক করে বলেছে, সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
আইডিএফের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা সম্ভব হলেও দ্বিতীয় দফার গুচ্ছবোমা উন্মুক্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ৫০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে অন্তত ১৪টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি জনবহুল এলাকায় আঘাত হেনেছে, যেগুলোতে ছিল শত শত কেজি বিস্ফোরক।
এছাড়া ৩০টিরও বেশি ঘটনায় গুচ্ছবোমা জনবহুল এলাকায় পড়েছে, যার ফলে দুই শতাধিক স্থানে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সব মিলিয়ে এই হামলাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এখন পর্যন্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশিও রয়েছেন। একই সময়ে পশ্চিম তীরে আরও চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে, চলমান সংঘাত দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, গুচ্ছবোমার ব্যবহার এবং বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হতে পারে।

