ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এবার সেই হুমকির কড়া সমালোচনা করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। তিনি এটিকে সরাসরি “অসহযোগিতামূলক” এবং “অপ্রয়োজনীয়” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রেডিও নিউজিল্যান্ড-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাক্সন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, এই সংঘাত যেন আর বিস্তৃত না হয়।
তিনি স্পষ্ট করে দেন, সেতু, জলাধার কিংবা অন্য কোনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, এমন পদক্ষেপ শুধু মানবিক দিক থেকেই নয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
লাক্সনের বক্তব্যে স্পষ্ট—মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই উত্তেজনা কমাতে হবে। যুদ্ধংদেহী অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে, কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বৈঠক করতে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে—যুক্তরাষ্ট্র যেন দ্রুত সংঘাত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক সম্পদ রক্ষা করা প্রতিটি দেশের দায়িত্ব। এই নীতির বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার ফল ভয়াবহ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এটি শুধু কূটনৈতিক বার্তাই নয়—এক ধরনের নৈতিক চাপও তৈরি করছে ওয়াশিংটনের ওপর।
লাক্সন শেষ পর্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে আলোচনার পথই এখন একমাত্র সমাধান। অন্যথায়, এই সংঘাত বেসামরিক মানুষের জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, নিউজিল্যান্ডের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে যুদ্ধ নয়, বরং সংযম ও আলোচনাকেই সামনে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

