যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির দাবি—অস্থায়ী কোনো যুদ্ধবিরতি নয়, তারা চায় স্থায়ীভাবে এই সংঘাতের অবসান। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের অবস্থান পরিষ্কার: যুদ্ধবিরতি বর্তমান সংকটের প্রকৃত সমাধান নয়। বরং এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তেহরানের দৃষ্টিতে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি মানে হচ্ছে প্রতিপক্ষের জন্য আরও প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর তেহরানভিত্তিক সাংবাদিক মোহাম্মদ ভল জানান, ইরান মনে করছে—যুদ্ধবিরতির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ভবিষ্যতের আরও বড় ও ধ্বংসাত্মক হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই তারা প্রস্তাবটি নাকচ করেছে।
ইরানের দাবি, কেবল একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি নয়, বরং পুরো অঞ্চলে একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তি প্রয়োজন। এই চুক্তির আওতায় শুধু ইরান নয়, লেবানন, ইয়েমেন, ইরাকসহ পুরো অঞ্চলে সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা চালানো হবে না—এমন নিশ্চয়তাও চায় তেহরান।
ইরানের মতে, এই যুদ্ধে তারা ইতোমধ্যেই বড় মূল্য দিয়েছে। দেশটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন বিশাল অর্থ ও সময়। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথাও ভাবছে তারা।
এ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে—হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের পরিকল্পনা। ধারণা করা হচ্ছে, এই কৌশলের মাধ্যমে ইরান ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় বাড়িয়ে নিজেদের অবকাঠামো পুনর্গঠনে বিনিয়োগ করতে চায়।
সব মিলিয়ে, ইরানের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় যে তারা এখন আর অস্থায়ী সমাধানে আগ্রহী নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি ও নিশ্চিত শান্তির পথ খুঁজছে—যেখানে ভবিষ্যতের কোনো সংঘাতের ঝুঁকি থাকবে না।

