মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল খাত। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাটি ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, এই হামলা ছিল পরিকল্পিত। তার ভাষায়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অর্থের প্রধান উৎসগুলোকে লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও চাপ সৃষ্টি করাই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীও পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের দুটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলার ফলে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ৮৫ শতাংশের বেশি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী আরও বলেছে, ইরানের আসালুয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা শুধু শিল্পকারখানা নয়, বরং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরির কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। ফলে এই স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতাকেও দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলা ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক কাঠামো—দুই ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পেট্রোকেমিক্যাল খাত, যা দেশটির অন্যতম প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।
সব মিলিয়ে, এই দাবিগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, ফলে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

