Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, এপ্রিল 9, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » রাশিয়া কি গোপনে ইরানকে যুদ্ধ-সহায়তা দিচ্ছে?
    আন্তর্জাতিক

    রাশিয়া কি গোপনে ইরানকে যুদ্ধ-সহায়তা দিচ্ছে?

    হাসিব উজ জামানএপ্রিল 7, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার ভেতর নতুন একটি অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার একটি মূল্যায়ন অনুযায়ী, রাশিয়া তার স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার বিস্তারিত ছবি তুলেছে এবং সেই তথ্য ইরানকে দিয়েছে। অভিযোগটি যদি সত্যি হয়, তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায়—অঞ্চলটির সংঘাত আর কেবল স্থানীয় শক্তির লড়াই নয়; এর পেছনে আরও সুসংগঠিত ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক সমন্বয় কাজ করছে।

    রয়টার্স এই মূল্যায়নটি পর্যালোচনা করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কেবল স্যাটেলাইট তথ্য নয়, সাইবার ক্ষেত্রেও রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সমন্বিত তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে রাশিয়া কীভাবে গোপনে ইরানকে সহায়তা করে থাকতে পারে, সে বিষয়ে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত চিত্রগুলোর একটি।

    ১১ দেশে ২৪ বার নজরদারি, টার্গেটে ৪৬টি স্থান

    ইউক্রেনীয় মূল্যায়ন বলছে, গত ২১ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রুশ স্যাটেলাইট মধ্যপ্রাচ্যের ১১টি দেশে কমপক্ষে ২৪ বার সরেজমিন জরিপ চালিয়েছে। এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত ছিল মার্কিন ও অন্যান্য সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, তেলক্ষেত্রসহ মোট ৪৬টি স্থান।

    এই তথ্যের গুরুত্ব এখানে যে, এটি বিচ্ছিন্ন নজরদারি নয়—বরং একটি ধারাবাহিক, পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণের ইঙ্গিত দেয়। কোনো অঞ্চলে একাধিক দেশের সামরিক ও জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে একই সময়ে পর্যবেক্ষণের অর্থ হলো, নজরদারির উদ্দেশ্য ছিল কৌশলগত। আর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই স্থানগুলো জরিপের কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সেখানে হামলা চালায়। এটিকে একটি “স্পষ্ট ধারা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অর্থাৎ, অভিযোগটি কেবল তথ্য আদান-প্রদানের নয়; এটি সম্ভাব্যভাবে গোয়েন্দা নজরদারি থেকে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন, তারপর হামলা—এই পুরো শৃঙ্খলের দিকে ইঙ্গিত করছে।

    পশ্চিমা ও আঞ্চলিক সূত্রও বলছে, অস্বাভাবিক কিছু ঘটছিল

    একটি পশ্চিমা সামরিক সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দা তথ্যেও এই অঞ্চলে রুশ স্যাটেলাইটের তীব্র তৎপরতার প্রমাণ মিলেছে। তারা আরও নিশ্চিত করেছে যে, ইরানকে ছবি সরবরাহ করা হয়েছে।

    এই অংশটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একক কোনো গোয়েন্দা মূল্যায়নের ওপর নির্ভর না করে এখানে অন্তত দুইটি আলাদা নিরাপত্তা সূত্রও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে বিষয়টি কেবল যুদ্ধকালীন প্রচারণা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া কোনো জবাব দেয়নি, তবু একাধিক সূত্রের সঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই অভিযোগকে আরও ওজন দিচ্ছে।

    সৌদি আরবে ৯টি জরিপ, থাডের অবস্থান খোঁজার চেষ্টা

    মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের উপর মোট ৯টি জরিপ চালানো হয়। এর মধ্যে ৫টি ছিল হাফার আল-বাতিনের কাছে অবস্থিত কিং খালিদ মিলিটারি সিটির উপর। ইউক্রেনীয় মূল্যায়নের দাবি, সেখানে মার্কিন তৈরি থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

    এখানে থাডের বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। থাড কেবল প্রতিরক্ষামূলক একটি ব্যবস্থা নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নিরাপত্তা উপস্থিতিরও প্রতীক। তাই যদি সত্যিই এই ব্যবস্থার অবস্থান চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে নজরদারি হয়ে থাকে, তাহলে তা ইঙ্গিত করে ইরানের লক্ষ্য ছিল শুধু প্রতীকী হামলা চালানো নয়, বরং প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষার সক্ষমতা সম্পর্কে নির্দিষ্ট ধারণা নেওয়া।

    তুরস্ক থেকে ডিয়েগো গার্সিয়া—নজরদারির পরিধি ছিল বিস্তৃত

    তুরস্ক, জর্দান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকা দুইবার করে জরিপের আওতায় এসেছে। অন্যদিকে ইসরাইল, কাতার, ইরাক, বাহরাইন এবং ডিয়েগো গার্সিয়া নৌ ঘাঁটি একবার করে জরিপ হয়েছে।

    এই তালিকা দেখলে বোঝা যায়, নজরদারি ছিল বহুস্তরীয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী, এবং কৌশলগত সামরিক অবস্থান—সবই ছিল। ডিয়েগো গার্সিয়ার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটি। ফলে বোঝা যায়, এই নজরদারির দৃষ্টি কেবল নিকটবর্তী লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বৃহত্তর সামরিক ভারসাম্যও এর আওতায় ছিল।

    হরমুজ প্রণালির ওপর নজরদারি: যুদ্ধের পাশাপাশি জ্বালানি-রাজনীতির বার্তা

    মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, রুশ স্যাটেলাইট হরমুজ প্রণালির উপরও সক্রিয়ভাবে নজরদারি চালাচ্ছে। বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি বড় দাবি—ইরান এখন “বৈরী নয় এমন জাহাজ” ছাড়া বাকি সবার জন্য এই পথে একটি অলিখিত অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে।

    এই অংশটি গোটা ঘটনাকে আরও গভীর করে তোলে। কারণ, হরমুজ প্রণালি কেবল একটি সমুদ্রপথ নয়; এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার একটি কেন্দ্রীয় ধমনী। সেখানে নজরদারি ও অঘোষিত চাপের অর্থ হলো, সংঘাত এখন সামরিক সীমানা ছাড়িয়ে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি-রাজনীতির পর্যায়েও প্রবেশ করছে। বিশ্ববাজারের জন্য এটি বড় ধরনের অস্থিরতার বার্তা।

    ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া: উদ্বেগ কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা?

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, “কোনো দেশের বাইরের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের সাফল্যকে প্রভাবিত করছে না।” ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।

    ওয়াশিংটনের এই প্রতিক্রিয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে দুই ধরনের ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করে—একদিকে হুমকিকে হালকা করে দেখিয়ে নিজের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দেওয়া, অন্যদিকে প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো। অলিভিয়া ওয়েলসের বক্তব্যে সেই প্রথম দিকটি বেশি স্পষ্ট। তবে প্রকাশ্য অস্বীকার সবসময় নেপথ্যের গুরুত্বকে বাতিল করে না।

    জি-৭ বৈঠকেও উঠেছে বিষয়টি

    দুই কূটনীতিক জানিয়েছেন, জি-৭ বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে এই বিষয়টি তোলেন। তবে রুবিও সরাসরি কোনো জবাব দেননি। যদিও তিনি প্রকাশ্যে ইরানকে রাশিয়ার সহায়তাকে নগণ্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

    এই নীরবতা নিজেই এক ধরনের কূটনৈতিক ভাষা। যখন কোনো সংবেদনশীল অভিযোগ সরাসরি খণ্ডন করা হয় না, তখন প্রায়ই ধরে নেওয়া হয় যে মিত্রদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বাস্তব। রুবিওর প্রকাশ্য অবস্থান হয়তো উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের কৌশল, কিন্তু আড়ালে মিত্রদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়াই দেখায় যে অভিযোগটি গুরুত্ব পেয়েছে।

    স্থায়ী যোগাযোগ চ্যানেল এবং তেহরানে রুশ সামরিক গুপ্তচরদের ভূমিকা

    ইউক্রেনীয় মূল্যায়ন অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ছবি আদান-প্রদান একটি স্থায়ী যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই চ্যানেলটি রাশিয়া ও ইরান ব্যবহার করে। একই সঙ্গে তেহরানে মোতায়েন রুশ সামরিক গুপ্তচররাও এই প্রক্রিয়াকে সহজ করে থাকতে পারে।

    এখানে মূল প্রশ্ন হলো—এটি কি তাৎক্ষণিক সহযোগিতা, নাকি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সমন্বয়ের অংশ? মূল্যায়নের ভাষা বলছে, এটি আকস্মিক নয়। একটি “স্থায়ী যোগাযোগ চ্যানেল” থাকার অর্থ হলো, দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতার কাঠামো আগে থেকেই ছিল এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে তা আরও সক্রিয় হয়েছে।

    প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির ঘটনা: অভিযোগের সবচেয়ে নির্দিষ্ট উদাহরণ

    আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্র একটি বিশেষ ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে এটি প্রকাশ করেছিলেন। বলা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির উপর ইরান হামলার মাত্র কয়েক দিন আগে একটি রুশ স্যাটেলাইট সেখানকার ছবি তুলেছিল।

    এরপর গত ২৭ মার্চ ইরান সেই ঘাঁটিতে হামলা চালায় এবং একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরদিন ২৮ মার্চ আরেকটি রুশ স্যাটেলাইট ওই স্থান পর্যবেক্ষণ করে হামলার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করে।

    এই ঘটনাটি অভিযোগের কেন্দ্রীয় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এখানে “হামলার আগে নজরদারি” এবং “হামলার পরে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন”—দুই ধাপই আছে। সামরিক ভাষায় এটি টার্গেটিং এবং ব্যাটল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্টের একটি পূর্ণচক্রের মতো। ফলে এই একটি ঘটনাই গোটা অভিযোগকে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য রূপ দেয়।

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে সম্পর্ক আরও গভীর

    রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে আরও গভীর হয়েছে। তখনই রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে। গত বছরের জানুয়ারিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান “কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি” স্বাক্ষর করেন।

    এই চুক্তির চতুর্থ ধারায় বলা হয়েছে, “জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে এবং সাধারণ হুমকি মোকাবেলায় উভয় পক্ষের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে।”

    চুক্তির এই ভাষা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি প্রকাশ্যে স্বীকৃত একটি কাঠামো, যার ভেতর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার বৈধতা তৈরি হয়। ফলে সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ কমে যায়। বরং সেগুলোকে এই অংশীদারিত্বের সম্ভাব্য বাস্তব প্রয়োগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

    সাইবার ফ্রন্টেও সমন্বিত হামলার অভিযোগ

    এই গোটা ঘটনার আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো সাইবার অঙ্গন। মূল্যায়নে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ইরান-নিয়ন্ত্রিত হ্যাকার গ্রুপগুলো তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। তারা মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করছে।

    একই মূল্যায়নে বলা হয়, রুশ হ্যাকার গ্রুপ “জেড-পেনটেস্ট অ্যালায়েন্স”, “নোনেম০৫৭(১৬)” ও “ডিডোসিয়া প্রজেক্ট” এবং ইরানের “হান্দালা হ্যাক” একসাথে কাজ করছে। তারা টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছে।

    গত মাসে হান্দালা হ্যাকসহ কয়েকটি গ্রুপ ইসরাইলের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় হামলার হুঁশিয়ারি দেয়। একই সময়ে রুশ গ্রুপগুলো ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রবেশতথ্য প্রকাশ করে দেয়।

    এখানে বিষয়টি শুধু সাইবার হামলার নয়; এটি “সমন্বিত চাপ প্রয়োগের” কৌশল। অর্থাৎ, একদিকে স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা নজরদারি, অন্যদিকে সাইবার হামলার মাধ্যমে অবকাঠামো দুর্বল করার চেষ্টা—দুইটি ফ্রন্ট একসঙ্গে চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

    রুশ সামরিক গোয়েন্দাদের কৌশল ব্যবহারের দাবিও উঠেছে

    মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইরানের হ্যাকার গ্রুপ “হোমল্যান্ড জাস্টিস” ও “কর্মাবিলো৮০” রুশ সামরিক গোয়েন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া কৌশল ব্যবহার করেছে। তারা ডোমেইন নিবন্ধনে চেলিয়াবিনস্কের রুশ ভিপিএস সেবাদাতা “প্রফিটসার্ভার” ব্যবহার করেছে।

    এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সাইবার জগতে অবকাঠামো, কৌশল, প্ল্যাটফর্ম এবং যোগাযোগের ধরন অনেক সময় রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। যদিও এগুলো সবসময় চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, তবু একাধিক সাইবার গ্রুপ যদি একই নেটওয়ার্ক, কৌশল বা সমন্বয় ব্যবহার করে, তাহলে তা বৃহত্তর নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকেই ইশারা করে।

    বড় ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে?

    এই গোটা তথ্যসমষ্টিকে একসঙ্গে রাখলে একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে। প্রথমত, রাশিয়া ও ইরানের সহযোগিতা এখন কেবল রাজনৈতিক সমর্থন বা অস্ত্র-বাণিজ্যের পর্যায়ে নেই; এটি গোয়েন্দা, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার হামলা এবং আঞ্চলিক সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ—এসবের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আরও জটিল হয়ে উঠছে, কারণ এখানে সরাসরি যুদ্ধে নেই এমন শক্তিগুলোরও ছায়া ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। তৃতীয়ত, জ্বালানি নিরাপত্তা, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামো—সবকিছুই এখন একই নিরাপত্তা সমীকরণের অংশ।

    ইউক্রেনীয় মূল্যায়নের এই তথ্যগুলো এখনো আন্তর্জাতিকভাবে পূর্ণাঙ্গ, স্বতন্ত্র ও সর্বসম্মতভাবে যাচাই করা হয়নি—এটি মাথায় রাখা জরুরি। কিন্তু অভিযোগগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা, পশ্চিমা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্রের সমর্থন, এবং স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে হামলার সময়গত মিল—সব মিলিয়ে বিষয়টি উপেক্ষা করার মতো নয়।

    যদি এই অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আর শুধু আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলে ব্যাখ্যা করা যাবে না। তখন এটি হয়ে উঠবে এমন এক যুদ্ধ-বাস্তবতা, যেখানে মহাকাশ প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সমন্বয়, সাইবার যুদ্ধ এবং প্রক্সি-ধাঁচের সহযোগিতা একই সূত্রে গাঁথা।

    এবং সেখানেই এই খবরের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য—এটি শুধু একটি অভিযোগ নয়, বরং ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কীভাবে পরিচালিত হতে পারে, তারও একটি সতর্ক সংকেত।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    লেবাননে ইসরায়েলি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি আরাগচির

    এপ্রিল 9, 2026
    আন্তর্জাতিক

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় ইসরায়েলে ভয়াবহ রকেট হামলা

    এপ্রিল 9, 2026
    আন্তর্জাতিক

    হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ফেরত পাঠাতে সম্মত ভারত

    এপ্রিল 9, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.