গত শুক্রবার ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, এ ঘটনা ঘটেছে কাঁধ থেকে ছোড়া মিসাইলের মাধ্যমে। ইরানি সেনারা এক বিশেষ ধরণের ম্যান-পোর্টেবল মিসাইল (ম্যানপ্যাড) ব্যবহার করে বিমানটিকে ভূপাতিত করেছে।
ট্রাম্প বলেন, “এটি একটি হিট-সিকিং মিসাইল, যা সরাসরি বিমানের ইঞ্জিনে আঘাত হানে। আপনারা ভাগ্যবান, কারণ তারা সঠিকভাবে লক্ষ্য করেছে। এই আঘাতের ফলে বিমানটি মাটিতে নেমে আসে।”
এই ঘটনার পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ বিমানকে শত্রুর হাতে ভূপাতিত হতে দেখা গেল। পাইলট এবং ক্রু উদ্ধার করতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও তা সহজ ছিল না। অভিযানে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান, দুটি এমসি-১৩০জে হারকিউলিস পরিবহন বিমান এবং অন্তত একটি হেলিকপ্টারও হারিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মাত্র কয়েক হাজার ডলারের একটি মিসাইলের মাধ্যমে মার্কিনির কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। এটি ইরানের কৌশলগত দক্ষতার প্রমাণও দেয়।
কাঁধ থেকে ছোড়া মিসাইলগুলোর লঞ্চ টিউব সাধারণত ৪ থেকে ৬.৫ ফুট লম্বা হয়। ওজন থাকে ১২ থেকে ২৫ কেজি। ইরানের কাছে বিভিন্ন ধরনের ম্যানপ্যাড রয়েছে, যেমন:
- সোভিয়েত আমলের স্ট্রেলা মিসাইল
- রাশিয়ার ইগলা মিসাইল
- ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মিসাঘ মিসাইল
যদিও ঠিক কোন মিসাইল এফ-১৫ ভূপাতিত করেছে তা নিশ্চিত নয়। তবে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা গেছে, কম খরচে সঠিক কৌশল প্রয়োগ করে বড় ধরনের ক্ষতি করা সম্ভব। ম্যানপ্যাডের মতো “কম খরচের” অস্ত্রের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিমান ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক যুদ্ধকৌশলে নতুন প্রশ্ন তোলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হওয়ায় ইরানের সামরিক কৌশল ও তাদের টেকসই প্রতিরক্ষা শক্তিকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ব।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ম্যানপ্যাডের মতো অস্ত্রের প্রভাব কেবল সামরিক হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়েও শক্তিশালী বার্তা দেয়। ছোট, বহনযোগ্য অস্ত্র ব্যবহার করে শত্রুর বড় ধরনের ক্ষতি করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও যুদ্ধকৌশলের দিক নির্দেশ করতে পারে।

