চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ অর্জনের দাবি করেছে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক পর্যায়েও তারা যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ইরান ১০ দফার একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে বাধ্য করেছে। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
ইরানের এই বক্তব্য মূলত একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা—তারা দেখাতে চাইছে, যুদ্ধক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করে আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।
তবে একই সঙ্গে একটি সতর্ক বার্তাও দিয়েছে তেহরান। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এটিকে যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়। অর্থাৎ, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি এবং যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
এই প্রস্তাবকে সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মূল লক্ষ্য থাকবে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া। মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ‘বিজয়’ দাবি আংশিকভাবে কৌশলগত। এটি অভ্যন্তরীণ জনমতকে শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান জোরালো করার একটি প্রচেষ্টা। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপও তৈরি করতে পারে, যাতে আলোচনায় ইরানের শর্তগুলো গুরুত্ব পায়।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পথ খুলছে, অন্যদিকে উভয় পক্ষই নিজেদের জয়ী হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে স্পষ্ট করে বলা যায়—সংঘাতের অধ্যায় এখনো শেষ হয়নি, বরং এটি একটি নতুন কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যার ফলাফল নির্ভর করবে আসন্ন আলোচনার ওপর।

