মধ্যপ্রাচ্যে দুই সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন সংকট দেখা দিয়েছে লেবাননকে কেন্দ্র করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, সব পক্ষ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত নয় এবং লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অর্জিত সমঝোতার মধ্যেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় সংঘাত থামার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে তারা নীতিগত সমর্থন জানিয়েছে, তবে লেবাননকে চুক্তির বাইরে রাখার কারণে তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে এমন এক অবস্থায় আনা যাতে তারা আর পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা সন্ত্রাসী হুমকি তৈরি করতে না পারে। তবে লেবাননে আমাদের নিরাপত্তা রক্ষা করতে অভিযান চালানো অপরিহার্য।”
অন্যদিকে শেহবাজ শরিফ এক আবেগঘন বার্তায় বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রস্তাবটি একটি বিচক্ষণ পদক্ষেপ এবং উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) একটি চূড়ান্ত আলোচনার আয়োজন করা হবে, যেখানে সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিনিধি দলগুলো অংশ নেবে। তার ভাষায়, সফল আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেহবাজের ‘সর্বত্র যুদ্ধবিরতি’র দাবি এবং নেতানিয়াহুর ‘লেবানন বাদে অভিযান’ ঘোষণার মধ্যে বিদ্যমান এই দ্বন্দ্বই আগামী ইসলামাবাদ বৈঠকের ফলাফলের উপর মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যত নির্ভর করবে। যদি ইসরায়েল তাদের অবস্থানে অনড় থাকে, তবে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে কি না, তা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সবমিলিয়ে, বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ইসলামাবাদের দিকে, কিন্তু নেতানিয়াহুর ঘোষণা যুদ্ধের ছায়া পুরোপুরি দূর করছে না।

