মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিণত করেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা। এই যুদ্ধ শুধু সীমান্ত নয়, মানবিক বিপর্যয়ও বয়ে এনেছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সংঘাতের কেন্দ্রস্থল ইরান ও লেবাননে প্রাণহানির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এই ৪০ দিনের সংঘাতে ৩ হাজার ৬৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের হিসাব কিছুটা কম, প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১২৯ শিশু। এই সংখ্যা শুধুই অফিসিয়াল রেকর্ড; বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।
ইরাকেও সংঘাতের তীব্রতা প্রবল। সেখানে অন্তত ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল ও ইরান-লেবাননের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১১ জন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়েছে; ১৩ জন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন।
সংঘাতের দাপট পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ জন, কাতার ও কুয়েতে ৭ জন করে নিহত হয়েছেন। সিরিয়া ও পশ্চিম তীরে চারজন করে প্রাণ হারিয়েছেন, আর বাহরাইন, ওমান ও সৌদি আরবে দুজন করে। এমনকি ফ্রান্সের একজন সেনাও এই সংঘাতে নিহত হয়েছেন।
বাংলাদেশও নিরাপদ ছিল না। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪০ দিনের এই যুদ্ধে ৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী প্রাণ হারিয়েছেন।
এই সংঘাত শুধু প্রাণহানি নয়, মানবিক বিপর্যয়ও বয়ে এনেছে। বাসস্থান ধ্বংস, পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনার ক্ষতি, তেল-গ্যাস সরবরাহের বিঘ্ন—সবকিছু একসাথে এক বিশাল সঙ্কট তৈরি করেছে। শিশু, নারী ও বৃদ্ধেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে দুই সপ্তাহের জন্য। যদিও তা সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে, তাতেও পুরো অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরেছে কি না তা প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে আগামী ১০ এপ্রিলের আলোচনাই হবে এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
৪০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত প্রমাণ করেছে, রাজনৈতিক এবং সামরিক উত্তেজনা মানুষের জীবনকে কতটা ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। হাজারো বিদেশি এবং ৬ বাংলাদেশি প্রাণ হারানো সেই শাস্তিস্বরূপ। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও স্থায়ী শান্তি কতটা জরুরি।

