দীর্ঘ উত্তেজনা আর রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে কূটনৈতিক টেবিলে বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, তিনি উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আশা করছেন ইসলামাবাদে এই বৈঠক একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠবে। তার ভাষায়, এই আলোচনা শুধু চলমান বিরোধ কমাবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ভিত্তিও গড়ে দিতে পারে।
প্রায় ৩৯ দিনের টানা যুদ্ধের পর যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তার পেছনেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে ইসলামাবাদ একটি সেতুবন্ধনের কাজ করেছে—যা এখন এই বৈঠকের মাধ্যমে আরও দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে।
এই সংঘাতের কেন্দ্রে ছিল হরমুজ প্রণালি—বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। এতে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।
সংঘাতের বিস্তার শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। লেবাননও এতে জড়িয়ে পড়ে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। ফলে পুরো অঞ্চলই একটি বিস্তৃত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, যার প্রভাব এখনো কাটেনি।
এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদ বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই আলোচনা সফল হয়, তাহলে তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বাস্তবতা হলো—যুদ্ধবিরতি এখনো সাময়িক, আর মাটির পরিস্থিতি জটিল। তাই ইসলামাবাদের এই বৈঠক কেবল একটি কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি হতে পারে যুদ্ধ থেকে শান্তির পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক।

