মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও একটি অপ্রত্যাশিত বার্তা এসেছে লেবানন থেকে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত। যদিও একই সময়ে ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে, তবুও সংঘাত থামানোর এই ইঙ্গিত পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গোষ্ঠীটি যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের এই সাময়িক সমঝোতাকে সামনে রেখে তারা সংঘাত থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে বাস্তব চিত্র অনেকটাই জটিল। ইসরায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের কাছে এই যুদ্ধবিরতি শুধু ইরানকে ঘিরে প্রযোজ্য—লেবাননের ক্ষেত্রে নয়। ফলে একদিকে হিজবুল্লাহ যুদ্ধ থামাতে আগ্রহ দেখালেও, অন্যদিকে ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার ভোরে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সিদোন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর আকাশ হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে তায়ির শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা সম্ভাব্য বড় আকারের অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—হিজবুল্লাহ বুধবার সকাল থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল বা লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর কোনো নতুন হামলা চালায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে গোষ্ঠীটি আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখাতে চাচ্ছে।
তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—একপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর হতে পারে? যদি একটি পক্ষ হামলা চালিয়ে যায়, আর অন্য পক্ষ শান্তির বার্তা দেয়, তাহলে সেই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনতে পারে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
সব মিলিয়ে, লেবাননের বর্তমান বাস্তবতা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংকটের একটি প্রতিচ্ছবি—যেখানে কূটনীতি ও সামরিক শক্তি একসাথে চলতে থাকে, কিন্তু শান্তি সবসময়ই অনিশ্চিত হয়ে থাকে।

