মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি যখন আরও ভয়াবহ দিকে গড়াচ্ছিল, তখন হঠাৎ করেই দৃশ্যপটে আসে একটি নতুন নাম—পাকিস্তান। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যত আলোচনা চলছিল, তার বড় অংশই ছিল পর্দার আড়ালে। প্রকাশ্যে কেউ খুব বেশি কিছু বলছিল না, কিন্তু কূটনৈতিক পর্যায়ে দ্রুত বার্তা আদান-প্রদান চলছিল। আর সেই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিল ইসলামাবাদ।
০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৫ পিএম-এ প্রকাশিত তথ্য ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে এখন স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি হঠাৎ করে আসেনি। এর পেছনে ছিল কয়েক সপ্তাহের যোগাযোগ, হিসেবি চাপ, আঞ্চলিক সমীকরণ, এবং খুব সীমিত পরিসরে পরিচালিত এক সংবেদনশীল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।
শুরুটা ছিল খুবই নীরব, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই পাকিস্তান থেকে আশার একটি বার্তা বেরিয়ে আসে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পাকিস্তানি সূত্র জানায়, আলোচনা ‘দ্রুতগতিতে চলছে’ এবং পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
এই তথ্যের গুরুত্ব ছিল দুই কারণে। প্রথমত, তখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি। দ্বিতীয়ত, এমন এক সময়ে এই বার্তা আসে, যখন সবাই ধরে নিচ্ছিল পরিস্থিতি হয়তো আরও খারাপের দিকে যাবে। সূত্রটি আরও জানায়, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে খুব ছোট একটি দল আলোচনায় অংশ নিচ্ছিল। পরিবেশ ছিল ‘গম্ভীর ও সংযত’, তবে এখনও আশা ছিল যে সংঘর্ষ থামানো সম্ভব।
এই অংশটি আসলে অনেক কিছু বলে দেয়। বড় ধরনের কূটনৈতিক অচলাবস্থায় অনেক সময় বড় প্রতিনিধি দল নয়, বরং ছোট, নমনীয়, কম-প্রচারিত যোগাযোগ চ্যানেল বেশি কার্যকর হয়। পাকিস্তান ঠিক সেই মডেলেই এগিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
কেন পাকিস্তানই এই ভূমিকা নিতে পারল?
এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বিশ্বাসের ঘাটতি বহুদিনের। এমন পরিস্থিতিতে এমন একটি দেশ দরকার ছিল, যে একদিকে তেহরানের সঙ্গে কথা বলতে পারে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে পারে। পাকিস্তান সেই দুই প্রান্তে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রেখেছে।
ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। দুই দেশের যৌথ সীমান্ত আছে, এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রায়ই ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের কথা বলা হয়। সীমান্ত-সংলগ্ন বাস্তবতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি ও মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—সব মিলিয়ে ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের যোগাযোগ একেবারে অস্বাভাবিক কিছু নয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও পাকিস্তানের যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং সাম্প্রতিক ভাষ্যে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীরকে ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি ইরানকে ‘অনেকের চেয়ে ভালো বোঝেন’। এই ধরনের মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত সৌজন্য নয়; বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের কিছু মূল্য দেখছে।
অর্থাৎ, পাকিস্তান এমন একটি অবস্থানে ছিল, যেখানে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাষায় কথা বলা সম্ভব। আর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই সক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলেছে বার্তা আদান-প্রদান
খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করে আসছিল। এখানেই বোঝা যায়, যুদ্ধবিরতি কোনো এক রাতের সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং এটি ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল।
এ ধরনের মধ্যস্থতায় মূল কাজ হয় তিনটি:
প্রথমত, এক পক্ষের বাস্তব অবস্থান অন্য পক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
দ্বিতীয়ত, প্রকাশ্যে বলা কঠিন এমন নমনীয় অবস্থান গোপনে যাচাই করা।
তৃতীয়ত, কোথায় আপসের জায়গা আছে, আর কোথায় লাল দাগ টানা—তা স্পষ্ট করা।
পাকিস্তান সম্ভবত এই তিনটি কাজই করেছে। কারণ যুদ্ধবিরতির আগে আগে যে ভাষা দুই পক্ষের কাছ থেকে আসতে শুরু করে, তা দেখে মনে হয় তারা অন্তত একটি সীমিত সময়ের বিরতিতে রাজি হওয়ার জায়গা খুঁজে পেয়েছিল।
আশাবাদ ছিল, কিন্তু নিশ্চয়তা ছিল না
তবু শেষ পর্যন্ত চুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গিয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, সোমবার পর্যন্ত তারা খুব আশাবাদী ছিলেন যে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।
কিন্তু এর পরেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। কারণ সোমবার ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলা এবং সৌদি আরবে তেহরানের আক্রমণ পুরো চিত্র পাল্টে দেয়। অর্থাৎ, যেখানে সংঘাত কিছুটা নিয়ন্ত্রিত পথে এগোচ্ছিল, সেখানে নতুন আঞ্চলিক বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তোলে।
ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তান ‘যতটা সম্ভব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।’ এই মন্তব্যে কূটনৈতিক সতর্কতা যেমন আছে, তেমনি আছে সংকটের গভীরতাও। কারণ একবার সংঘাত যদি বহু-পাক্ষিক হয়ে যায়, তখন মধ্যস্থতা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।
আসিম মুনীরের কঠোর ভাষা: শুধু প্রতিক্রিয়া, নাকি চাপ তৈরির কৌশল?
এই পর্যায়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীর আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট সমাধানের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে নষ্ট করছে।’
সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এটি ছিল অন্যতম কঠোর মন্তব্য। এই বক্তব্যের তাৎপর্য অনেক। কারণ পাকিস্তান সাধারণত আঞ্চলিক টানাপোড়েনে ভাষা বেছে ব্যবহার করে। সেখানে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া মানে হয় দুইটি বিষয়: এক, ইসলামাবাদ বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে; দুই, তারা ইরানের ওপরও একটি চাপ তৈরি করতে চেয়েছে।
কিছু বিশ্লেষক তখন মনে করেছিলেন, এতে ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদির একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। যদিও দেশটিতে একাধিক হামলার পরও সেটি কার্যকর করা হয়নি, তবু এই বাস্তবতা ইরানের সামনে একটি বাড়তি হিসাব তৈরি করে। অর্থাৎ, পাকিস্তান শুধু মধ্যস্থতাকারী নয়, প্রয়োজনে আঞ্চলিক ভারসাম্যের অংশীদারও হতে পারে—এই বার্তাও সেখানে ছিল।
শাহবাজ শরিফের রাতের বার্তা এবং সময় কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল
মধ্যরাতের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ‘স্থিতিশীল, শক্তিশালীভাবে এগোচ্ছে’ এবং দ্রুত ফলাফল আসতে পারে। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দুই সপ্তাহ সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেন এবং একই সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এই অংশটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে পাকিস্তান শুধু বার্তাবাহক হিসেবে নয়, বরং একটি বাস্তব সমঝোতার কাঠামো প্রস্তাব করছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে সময় বাড়াতে বলা হয়েছে, অন্যদিকে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, পাকিস্তান এমন একটি বিনিময়সূত্র দাঁড় করাতে চেয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই অন্তত অস্থায়ীভাবে কিছু পাবে।
এই কৌশল কার্যকর হওয়ার কারণও স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল সামরিক উত্তেজনা কমুক এবং কৌশলগত জলপথে নিরাপত্তা ফিরুক। ইরান চেয়েছিল তাৎক্ষণিক চাপ ও হামলার গতি কমুক। পাকিস্তান এই দুই প্রয়োজনকে একই কাঠামোয় বেঁধে ফেলে।
রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টা: সংকট থেকে সমঝোতার পথে
পাকিস্তানে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম রাত প্রায় ৩টার দিকে জানান, পরিস্থিতি ‘সংকটপূর্ণ ও সংবেদনশীল অবস্থা থেকে এক ধাপ এগিয়েছে।’ এই ভাষা খুব সতর্ক, কিন্তু স্পষ্টতই ইঙ্গিতবহ। এর মানে, রাতভর আলোচনায় অন্তত এমন কিছু অগ্রগতি হয়েছিল যা প্রকাশ্যে বলা না গেলেও আশা জাগাচ্ছিল।
তারপর ভোর ৫টার কিছু আগে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা করেন যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে এবং তিনি ১০ এপ্রিল শুক্রবার ইসলামাবাদে দুই পক্ষকে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানান, যাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগোনো যায়।
এই সময়রেখা দেখলে বোঝা যায়, রাতের শেষ প্রহরেই কূটনৈতিক অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। সম্ভবত তখনই শর্ত, সময়সীমা এবং প্রাথমিক সমঝোতার কাঠামো চূড়ান্ত হয়।
পাকিস্তান কীভাবে দুই পক্ষকে রাজি করাল—বিশ্লেষণ
ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে পাকিস্তানের সাফল্যের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ দেখা যায়।
১. দুই পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য যোগাযোগমাধ্যম ছিল
ইরানের সঙ্গে সীমান্ত, ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক বাস্তবতা পাকিস্তানকে তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানের সামরিক ও কৌশলগত যোগাযোগও পুরোপুরি অকার্যকর ছিল না।
২. খুব সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত দল ব্যবহার করা হয়েছে
খুব ছোট একটি দল আলোচনায় থাকায় তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি কমেছে, বার্তা দ্রুত গেছে, এবং অনমনীয় অবস্থান কিছুটা নমনীয় করা সহজ হয়েছে।
৩. চাপ ও সংলাপ—দুই পথই খোলা রাখা হয়েছে
পাকিস্তান একদিকে সংলাপ চালিয়েছে, অন্যদিকে সৌদি আরবে হামলার পর কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ইরানকে বার্তা দিয়েছে যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইসলামাবাদের অবস্থানও বদলাতে পারে।
৪. সমঝোতার বাস্তব ফর্মুলা দিয়েছে
শুধু “শান্তি চান” এমন সাধারণ আহ্বান যথেষ্ট ছিল না। পাকিস্তান কার্যত একটি কাঠামো দিয়েছে: দুই সপ্তাহ সময়, হরমুজ প্রণালি খোলা, ইসলামাবাদে বৈঠক। অর্থাৎ, তারা কেবল কথা বলেনি, পরবর্তী ধাপও সাজিয়েছে।
৫. সময়ের গুরুত্ব বুঝে দ্রুত কাজ করেছে
রাতভর আলোচনায় বোঝা গেছে, পরিস্থিতি এমন ছিল যেখানে কয়েক ঘণ্টার দেরিও বড় রকমের সামরিক বিস্তার ডেকে আনতে পারত। পাকিস্তান সেই ফাঁকটুকু কাজে লাগিয়েছে।
তবু পরিস্থিতি কেন এখনও ভঙ্গুর
সবকিছুর পরও পাকিস্তানি সূত্রটি সতর্ক করে দিয়ে জানায়, পরিস্থিতি এখনও ‘ভঙ্গুর’। দুই পক্ষের মধ্যে এখনো আস্থার ঘাটতি আছে, আর তাদের অবস্থানও বেশ কঠোর।
এই সতর্কবার্তাই আসলে পুরো ছবির সবচেয়ে বাস্তব অংশ। কারণ যুদ্ধবিরতি হয়েছে মানেই বিরোধ শেষ হয়ে গেছে—এমন ভাবার সুযোগ নেই। বরং দুই সপ্তাহের বিরতি হলো এক ধরনের পরীক্ষামূলক সময়। এই সময়ের মধ্যে যদি আস্থা তৈরি না হয়, ইসলামাবাদ বৈঠকে অগ্রগতি না আসে, অথবা মাঠপর্যায়ে নতুন কোনো উত্তেজনা তৈরি হয়, তাহলে পুরো প্রক্রিয়াই আবার ভেঙে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর পেছনে পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল নিছক শুভেচ্ছা বিনিময় নয়; এটি ছিল হিসেবি, বহুস্তরীয় এবং সময়-সংবেদনশীল কূটনৈতিক তৎপরতা। ইসলামাবাদ একদিকে দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে যোগাযোগের সেতু তৈরি করেছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক চাপ, সৌদি ফ্যাক্টর, হরমুজ প্রণালি এবং সময়সীমার মতো বিষয়গুলোকে একই সমীকরণে এনেছে।
ফলে বলা যায়, পাকিস্তান এই সংকটে “শান্তির দূত” হিসেবে নয়, বরং “সমঝোতার স্থপতি” হিসেবে সামনে এসেছে। তবে এই স্থাপত্য এখনো পুরোপুরি শক্ত নয়। কারণ যুদ্ধবিরতি এসেছে, কিন্তু আস্থা এখনো আসেনি। আর ঠিক সেখানেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের বড় প্রশ্ন—এই দুই সপ্তাহ কি স্থায়ী সমঝোতার পথ খুলবে, নাকি এটি কেবল বড় ঝড়ের আগে অল্প সময়ের বিরতি?

