মধ্যপ্রাচ্যের টানা উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও শুরু হয়েছে জাহাজ চলাচল। যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান এই প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পরই বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা মেরিন ট্রাফিক নিশ্চিত করেছে, ইতোমধ্যে দুটি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিসের মালিকানাধীন ‘এনজে আর্থ’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ডেটোনা বিচ’ প্রণালিটি পার হয়েছে। এর মধ্যে ডেটোনা বিচ ইরানের বন্দর আব্বাস থেকে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই এই পথ অতিক্রম করে।
সংখ্যায় মাত্র দুটি জাহাজ হলেও এর তাৎপর্য অনেক বড়। কারণ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান প্রবেশদ্বার। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অচলাবস্থাও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। অনেক জাহাজ চলাচল কমিয়ে দেয়, বাড়ে বীমা খরচ, আর তেলের দামও অস্থির হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়া শুধু একটি সামুদ্রিক ঘটনা নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বিশেষ করে জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি স্বস্তির খবর, কারণ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
তবে বাস্তবতা হলো, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই চলাচল নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ নিরাপত্তা এখনো নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে, পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, হরমুজ প্রণালিতে এই জাহাজ চলাচল এক ধরনের ইতিবাচক সূচনা। তবে এটি স্থায়ী সমাধানের ইঙ্গিত নয়, বরং সাময়িক স্বস্তির প্রতিফলন। যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, সেটিই নির্ধারণ করবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে স্বাভাবিকতা কত দ্রুত ও কতটা স্থায়ীভাবে ফিরে আসবে।

