বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের নতুন অগ্রগতি হিসেবে হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে ফেরত পাঠাতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভারত সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-এর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশই পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল-এর প্রত্যর্পণের অনুরোধও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাদি হত্যা মামলার বিষয়ে অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করায় ভারতকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বৈঠকের বাইরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতাও গুরুত্ব পায়। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী-এর সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য বাধা কমানো এবং জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয় আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে ডিজেল ও সারের সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা ইতিবাচকভাবে বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে ভারত। এছাড়া বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ভারত।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন ড. খলিলুর রহমান। সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, যা দুই দেশের সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

