ইরানের সঙ্গে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ না থাকায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন দেশীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই পরিস্থিতি প্রকাশ করেছে।
নেতানিয়াহু যুদ্ধ শুরুর সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতা সাংঘর্ষিক। তিনি তখন বলেছিলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে এটিকে ইসরায়েল-সমর্থক রাষ্ট্রে রূপান্তর করবেন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি তার প্রত্যাশার দিকেই এগোয়নি।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে দুর্বল যুদ্ধবিরতি আলোচনা হয়েছে, সেখানে ইসরায়েলের কোনও কার্যকর ভূমিকা ছিল না। এই কারণে নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছেন এবং এখন তার কৌশল পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
বর্তমানে তার মূল মনোযোগ হিজবুল্লাহকে দুর্বল করা এবং লেবাননকে ইরানের প্রভাব থেকে বিচ্ছিন্ন করার দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহু এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেখাতে চান যে দেশের নিরাপত্তা ও যুদ্ধ পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ এখনও তার হাতে রয়েছে। এভাবেই তিনি চেষ্টা করছেন জনমত ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই নাজুক অবস্থার ফলে তিনি আন্তর্জাতিক চাপ এবং দেশীয় সমালোচনার মধ্যে দিয়ে যুদ্ধে সীমিত কৌশল অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার নীতি এখন শুধুমাত্র লেবানন ও হিজবুল্লাহ কেন্দ্রিক।

