মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি সরাসরি ইসরায়েলকে “মানবতার জন্য অভিশাপ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশটির সামরিক কার্যক্রম পুরো অঞ্চলে রক্তপাত ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে খাজা আসিফ অভিযোগ করেন, যখন আন্তর্জাতিক মহল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনার পথে এগোচ্ছে, ঠিক সেই সময় ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। তার ভাষায়, নিরীহ মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, এই সহিংসতা নতুন কিছু নয়। এর আগে ফিলিস্তিনের গাজায় সংঘটিত ঘটনাগুলোর পর ইরান, আর এখন লেবানন—একটির পর একটি অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা আরও গভীর হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠছে অনিশ্চিত।
এই মন্তব্যের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। খুব শিগগিরই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এমন এক সময়েই খাজা আসিফের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই মন্তব্য শুধু একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি দেশটির বৃহত্তর কূটনৈতিক অবস্থানকেও তুলে ধরে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে ইসলামাবাদ যে অবস্থানে রয়েছে, খাজা আসিফের বক্তব্য সেই অবস্থানকেই আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক আলোচনার গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন বিভিন্ন দেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তানের এই কড়া অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক অঙ্গনে এর প্রভাব কী হতে পারে—সেদিকেই এখন নজর সবার।

