ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন— এমন তথ্যই সামনে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি তেহরান, তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বক্তব্যে উঠে এসেছে তার শারীরিক ও রাজনৈতিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এরপরই দায়িত্ব নেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই তিনি নিজেও গুরুতরভাবে আহত হন বলে জানা গেছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে চালানো বিমান হামলায় তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায় এবং পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। এমনকি একটি মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তিনি একটি পা হারিয়ে থাকতে পারেন— যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
তবে শারীরিক আঘাত সত্ত্বেও তিনি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় নন। বরং অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে যুক্ত রয়েছেন। সূত্রগুলো বলছে, মানসিকভাবে তিনি এখনো সম্পূর্ণ সচল এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন।
এই পরিস্থিতি ইরানের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়েই সামনে এসেছে। একদিকে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চঝুঁকির শান্তি আলোচনা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যও পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা মনে করেন, মোজতবা খামেনি আপাতত ধারাবাহিকতার প্রতীক হলেও, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে একক শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তার মতে, তিনি “অনেকগুলোর মধ্যে একটি কণ্ঠ” হয়ে থাকবেন, একমাত্র সিদ্ধান্তদাতা নয়।
এদিকে ইরানের শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার হাতে থাকে সর্বময় ক্ষমতা— সামরিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত সব সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন তিনি। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, বিপ্লবী গার্ডসহ অন্যান্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব বাড়ছে।
জনসমক্ষে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতিও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত তার কোনো ভিডিও বা সাম্প্রতিক ছবি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি “কোথায় মোজতবা?”— এমন প্রশ্নও উঠছে জনমনে।
সরকারপন্থী মহলের দাবি, এটি পুরোপুরি নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত। কারণ, সাম্প্রতিক হামলায় ইতোমধ্যে ইরানের অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন, ফলে নতুন নেতাকে প্রকাশ্যে আনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, গুরুতর শারীরিক আঘাত নিয়েই নেতৃত্বে থাকা মোজতবা খামেনির সামনে এখন একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, আন্তর্জাতিক আলোচনায় কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা— এই তিনটি ক্ষেত্রেই তার সক্ষমতা আগামী দিনে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

