পাকিস্তানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে দূরত্ব এখনো অনেকটাই গভীর। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরান অভিযোগ করেছে যে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু দাবি তুলে ধরেছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, পাকিস্তানে অবস্থানরত ইরানি প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এই দাবি করেছে। সেই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এমন সব শর্ত দিয়েছে, যা তেহরানের কাছে “অতিরিক্ত ও অগ্রহণযোগ্য” বলেই বিবেচিত হয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন অবস্থান সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জ্বালানি উৎপাদনের জন্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় এই কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা—যা ইরানের দৃষ্টিতে তাদের সার্বভৌম অধিকারে হস্তক্ষেপের শামিল।
এখানেই মূল দ্বন্দ্ব। কারণ, সাম্প্রতিক সংঘাতে সরাসরি সামরিক চাপ প্রয়োগ করেও যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারেনি, এখন আলোচনার টেবিলে সেই একই লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে—এমনটাই মনে করছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান কূটনৈতিকভাবে একটি জটিল সংকেত বহন করে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা থেকে পুরোপুরি দূরে রাখতে, অন্যদিকে ইরান মনে করছে—এই শর্তগুলো মানে তাদের কৌশলগত শক্তি ও আঞ্চলিক প্রভাব দুর্বল করে দেওয়া।
ফলে পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। কারণ, এক পক্ষ যেখানে “নিরাপত্তা” নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্য পক্ষ সেখানে “অধিকার” রক্ষার লড়াই দেখছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই আলোচনার অচলাবস্থা শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক বিরোধ নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, জ্বালানি রাজনীতি এবং বৈশ্বিক কূটনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দুই পক্ষ তাদের অবস্থান থেকে কতটা সরে আসতে পারে, নাকি এই অচলাবস্থা আরও বড় সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত করছে।

