মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার সরাসরি চীনকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চীন যদি ইরানকে অস্ত্র বা সামরিক সহায়তা প্রদান করে, তাহলে তাদের “গুরুতর পরিণতি” ভোগ করতে হবে।
হোয়াইট হাউস থেকে ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু ইরান নয়, বরং ইরানের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক মিত্রদের দিকেও নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চীন ইতোমধ্যে ইরানকে সহায়তা করছে। যদিও এই তথ্যের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও তিনি বলেন—যদি এটি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে বেইজিংকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে একটি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে পারে। যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে তা ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইরান তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। আর সেই প্রক্রিয়ায় চীনের মতো একটি শক্তিশালী দেশের সম্ভাব্য সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কারণ এতে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দিক সামনে এসেছে। আগামী মাসের শুরুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্পের চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এই হুঁশিয়ারিকে অনেকেই আসন্ন বৈঠকের আগে কূটনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল হিসেবেও দেখছেন।
সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান ক্রমেই আরও জটিল হয়ে উঠছে। সামরিক সহযোগিতা, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে বৈশ্বিক শক্তির নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, পুরো বিশ্ব রাজনীতিতেই পড়তে পারে।

