ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার উচ্চপর্যায়ের সংলাপ কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই ব্যর্থ আলোচনার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই এমন বার্তা দিল দেশটি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি অক্ষুণ্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাত নয়, বরং সংলাপই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হতে পারে।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ভবিষ্যতেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে। তার মতে, ইসলামাবাদ সবসময় চেষ্টা করবে যাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।
ইসহাক দার আশা প্রকাশ করেন, উভয় পক্ষই শুধু নিজেদের স্বার্থ নয়, বরং পুরো অঞ্চল ও তার বাইরের স্থিতিশীলতা বিবেচনা করে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি সংলাপে অংশ নেওয়া এবং যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য উভয় দেশকে ধন্যবাদ জানান।
এর আগে শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। এরপরই দুই দেশের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ ত্যাগ করে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, আলোচনায় কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে রয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে মতবিরোধই মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি ছিল, ইরান যেন স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে তেহরান সেই শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি। এর বাইরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক নীতি এবং আঞ্চলিক সংঘাতসহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, যেকোনো অগ্রগতি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবসম্মত অবস্থান ও সদিচ্ছার ওপর। একই সঙ্গে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ সম্পদের ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।
সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই আলোচনা ব্যর্থ হলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো শেষ হয়নি। তবে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা না গেলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

