হাইতির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিটাডেল লাফেরিয়েরে ভয়াবহ পদদলিতের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইস্টার উপলক্ষে আয়োজিত একটি বার্ষিক সমাবেশ চলাকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তেই উৎসবের পরিবেশকে পরিণত করে শোক ও আতঙ্কে।
দেশটির নর্ড বিভাগের সিভিল প্রোটেকশনের প্রধান জেন হেনরি পিটিট জানিয়েছেন, শনিবার ১১ এপ্রিল এই ঘটনা ঘটে। তার মতে, ঘটনাটিতে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ অনেক আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের পর দুর্গটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং সাধারণ দর্শনার্থীর ভিড় জমে। প্রবেশপথের কাছেই হঠাৎ করে চাপা ভিড় তৈরি হয়, আর সেখান থেকেই শুরু হয় পদদলনের ঘটনা। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন হঠাৎ ভারি বৃষ্টি শুরু হয়, ফলে মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ে ফিলস-অ্যামি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মিলো শহরের ওই এলাকায় একটি পর্যটন অনুষ্ঠানের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে অনেক তরুণ অংশ নিয়েছিল। সরকার ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা জানানো হয়নি। স্থানীয় সূত্র ও সিভিল প্রোটেকশনের কর্মকর্তাদের বরাতে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়।
ঐতিহাসিক দিক থেকে সিটাডেল লাফেরিয়েরে হাইতির স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর বিপ্লবী নেতা হেনরি ক্রিস্টোফি এটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা শুধু একটি পর্যটন উৎসবের ট্র্যাজেডি নয়, বরং জনসমাগম ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির দিকেও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় এক গভীর শোকের ঘটনায়, যা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

