বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, এই কৌশলগত জলপথ এখন “পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে হলে এখন থেকে জাহাজগুলোকে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালে টোল পরিশোধ করতে হবে। এই ঘোষণাকে শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
হাজি বাবাই বলেন, ইরানের পার্লামেন্টের ২৫০ জন সদস্য সর্বসম্মতভাবে এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তার ভাষায়, দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তেহরান পরিষ্কার করে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে তারা কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের তেল রপ্তানি প্রতিদিন ১৬ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, কার্যত ইরানের তেল এখন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কাটিয়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক বাজারে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে, যা বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।
এই প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির আলোচনায়ও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। তবে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট—তাদের শর্ত পূরণ ছাড়া এই পথ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হবে না।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির কথাও শোনা যাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং সেখানে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও ইরান এই ধরনের মার্কিন উপস্থিতির দাবি অস্বীকার করেছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। এটি শুধু একটি আঞ্চলিক ইস্যু নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ফলে এই সংকটের পরবর্তী গতি কোন দিকে যাবে, তা এখন পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

