মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দর কার্যত অবরোধের আওতায় আনা হবে। তবে একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল—এতে বাধাগ্রস্ত হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সব ধরনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বা অবরোধ কার্যকর করা হবে। এই সময়কে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৮টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানের ব্যর্থতার জবাব হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালানো হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হুমকির মুখে ইরান কখনোই নতি স্বীকার করবে না। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান আবারও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো সামরিক জাহাজকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বন্দর অবরোধ এবং সামরিক হুঁশিয়ারি—এই দুইয়ের সমন্বয়ে পরিস্থিতি এখন সরাসরি সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। পাকিস্তানে ব্যর্থ আলোচনা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার পর এই নতুন পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ ও ইরানের বন্দরকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই সংকট এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

