মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অবরোধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট হলেও, তার দীর্ঘদিনের সামরিক মিত্ররা এবার ভিন্ন সুরে কথা বলছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হবে না। বরং তাদের অবস্থান—যুদ্ধ পরিস্থিতি থামলে তবেই তারা এ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বিবেচনা করবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। কারণ, এতদিন বড় কোনো সামরিক উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকা এই জোট এবার সরাসরি সরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি সামরিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও—যেখানে যুদ্ধের বদলে শান্তি ও সংলাপকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জোটের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ অবরোধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান এবং অন্যান্য দেশকে পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা এই সিদ্ধান্তে ধাক্কা খেয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, হরমুজ অবরোধে বিশ্বের অনেক দেশ তার সঙ্গে যোগ দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, জোটের প্রধান দেশগুলো এই উদ্যোগে অংশ নিতে রাজি নয়। বরং তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, বর্তমান সংঘাতে তারা নিজেদের জড়াতে চায় না।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যেকোনো চাপই আসুক, তাদের অবস্থান বদলাবে না—তারা এই সংঘাতে জড়াবে না এবং অবরোধকেও সমর্থন করছে না। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে ইউরোপের আরও কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ।
তবে পুরো চিত্র একেবারে একরকম নয়। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এসেছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। তবে সেটিও তখনই সম্ভব, যখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হবে।

