ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভোরের নীরবতা ভেঙে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন লেগে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
রোববার (২ মে) ভোর প্রায় ৪টার দিকে ভিবেক বিহার এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং দ্রুত তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত মানুষেরা তখন বুঝে ওঠার আগেই আগুন পুরো ভবনকে গ্রাস করতে শুরু করে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট। তবে আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় দুই ঘণ্টা লেগে যায়। সকাল ৬টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে ভবনের বড় একটি অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
উদ্ধারকারীরা পোড়া ভবন থেকে এক ডজনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। আহতদের দ্রুত গুরু ত্যাগ বাহাদুর হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। তবে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা রাজেন্দ্র প্রসাদ মীনা জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ধাপে ধাপে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয় এবং সেগুলো পুলিশের ক্রাইম টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই ভয়াবহ ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, কোনো একটি এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণের কারণেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে, দিল্লির এই ঘটনা আবারও নগর জীবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত—এই প্রশ্ন নতুন করে উঠছে। আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

