মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে এবং একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’, যা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অভিযানের লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা এবং ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়া।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একাধিক ছোট নৌকা, ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সুরক্ষায় থাকা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা চালায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
মার্কিন পক্ষ আরও জানায়, অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার সেনা, যুদ্ধজাহাজ, ডেস্ট্রয়ার এবং শতাধিক বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের পূর্ণ ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বহু দেশের জাহাজ আটকে পড়েছে। মার্কিন দাবি অনুযায়ী, অন্তত ৮৭টি দেশের জাহাজ এখনও উপসাগরে আটকা রয়েছে।
তবে ইরান এই সব দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের কোনো নৌযান ধ্বংস হয়নি এবং সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেনি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। ইতোমধ্যে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—বিশ্ব অর্থনীতিও বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অন্যদিকে ইরান তাদের অবস্থান থেকে সরছে না। যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে কিনা—সেটিও স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে, হরমুজ এখন কেবল একটি জলপথ নয়—এটি হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক শক্তির সংঘর্ষের কেন্দ্র, যার প্রতিটি পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।
সিভি/এইচএম

