মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন কূটনৈতিক বার্তা দিল ইরান। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনায় বসতে আগ্রহ দেখালেও, তার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু শর্ত মানতে হবে—এমনটাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই।
সোমবার এক টেলিভিশন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ করা। তবে এর জন্য ওয়াশিংটনকে ‘অতিরিক্ত দাবি’ থেকে সরে এসে আরও বাস্তবসম্মত অবস্থান নিতে হবে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও কূটনৈতিক অগ্রগতি প্রায় থমকে আছে। এখন পর্যন্ত মাত্র এক দফা সরাসরি আলোচনা হয়েছে। এরই মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি।
ইরান এই প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল, গ্যাস ও সার সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সামরিক প্রহরায় নিরাপত্তা দেবে। এই ঘোষণার পরই ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয়।
বাকেই স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হুমকি ও শক্তির ভাষা দিয়ে ইরানের সঙ্গে আচরণ করা যাবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরান নিজেকে হরমুজ প্রণালির ‘রক্ষক’ হিসেবে দেখে।
ইসরাইলের দিকে ইঙ্গিত করে ইরান অভিযোগ করেছে, এই সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররাই দায়ী। তাদের মতে, সংঘাত শুরুর আগে হরমুজ ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি নিরাপদ পথ।
এছাড়া জানা গেছে, যুদ্ধের অবসানকে সামনে রেখে ইরান ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যার জবাব যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দিয়েছে।
বর্তমান বাস্তবতায় একদিকে যুদ্ধবিরতি থাকলেও, অন্যদিকে বাড়ছে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ। ইরান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত—কিন্তু শর্তসাপেক্ষে। আর যুক্তরাষ্ট্রও তার অবস্থান থেকে খুব বেশি ছাড় দিতে প্রস্তুত কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই সংকট এখন বৈশ্বিক রাজনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর একটি, যার পরিণতি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সিভি/এইচএম

