ইরানকে কেন্দ্র করে টানা উত্তেজনার পর অবশেষে সামরিক অধ্যায়ের ইতি টানার ঘোষণা এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে এবং এখন নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরুর অর্থই হলো আগের সামরিক অভিযানের সমাপ্তি। তার ভাষায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত হামলা এখন অতীত, এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি ভিন্ন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
রুবিওর বক্তব্যে পরিষ্কার যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি সামরিক সংঘাত থেকে সরে এসে একটি নতুন কৌশল নিতে চাইছে। এই কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’কে বিশ্বের জন্য একটি সহায়ক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এটি শুধু সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি বৈশ্বিক মানবিক প্রচেষ্টা।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বহু দেশের জাহাজ আটকা পড়ে যায়। এতে বিপুলসংখ্যক নাবিক ও বেসামরিক মানুষ কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান।
রুবিও জানান, প্রায় ৮৭টি দেশের ২৩ হাজারের বেশি মানুষ ওই অঞ্চলে আটকা পড়েছিলেন। তার অভিযোগ, ইরান সরকার তাদের যথাযথ সহায়তা দেয়নি এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছিল। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ উদ্যোগের মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
তবে এই ঘোষণার মধ্যেও এক ধরনের দ্বৈত বার্তা রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে; অন্যদিকে তারা পুরোপুরি পিছু হটেনি। বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার চেষ্টা করছে।
রুবিও নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা সহজ ছিল না। তিনি এটিকে জটিল ও হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, সামরিক অভিযান শেষ হলেও দ্বন্দ্বের অবসান এখনো দূরের ব্যাপার।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান মূলত কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যেকোনো অস্থিরতা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। তাই সামরিক অভিযান বন্ধের এই ঘোষণা কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে এসে কূটনীতির পথে হাঁটতে চাইছে। তবে এই পথ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পরবর্তী আলোচনার ওপর।
সিভি/এইচএম

