Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, জুন 24, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » জমে থাকা অর্থ ঘিরে ইরান-মার্কিন টানাপোড়েন
    আন্তর্জাতিক

    জমে থাকা অর্থ ঘিরে ইরান-মার্কিন টানাপোড়েন

    হাসিব উজ জামানজুন 24, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপ শেষ হলেও দুই পক্ষের বক্তব্যে এখনো বড় ধরনের ফারাক দেখা যাচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটন বলছে, আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে এবং ইরান গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্তে রাজি হয়েছে। অন্যদিকে তেহরান জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের দাবি করছে, বাস্তবে তেমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর যে সমঝোতার আভাস পাওয়া গিয়েছিল, তা এখন অনেক প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে কয়েকটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড়, আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার, হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ব্যবহার এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের ভবিষ্যৎ। এসব বিষয়ের প্রতিটিই শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রথম দফা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ ও ট্যাংকারে মজুত থাকা আনুমানিক ৬৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পথ তৈরি হতে পারে। ইরানের জন্য এটি অর্থনৈতিকভাবে বড় স্বস্তির খবর। কারণ দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে পারলেও তা অনেক ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে করতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে তেহরান তুলনামূলক স্বাভাবিক বাজারদরে তেল বিক্রির সুযোগ পাবে।

    তবে এই ছাড়কে পুরোপুরি স্থায়ী সিদ্ধান্ত বলা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান যদি তার অংশের প্রতিশ্রুতি না রাখে, তাহলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। অর্থাৎ ওয়াশিংটন এখনো চাপের কৌশল ধরে রেখেছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, কিন্তু সেটি স্থায়ী আস্থার ভিত্তিতে নয়; বরং আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সরাসরি আলোচনা শুরু হয় গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর। এই সমঝোতার আওতায় পারমাণবিক কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নজরদারি ব্যবস্থা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে আলাদা কর্মপর্যায়ের আলোচনা চালানোর কথা বলা হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধান আলোচকেরা নিয়মিতভাবে উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাছে অগ্রগতি জানাবেন। এই কাঠামো থেকে বোঝা যায়, দুই পক্ষ অন্তত আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

    কিন্তু সমস্যাটি হলো—কী বিষয়ে বাস্তবে একমত হওয়া গেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ১২ বিলিয়ন ডলার আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড় করতে রাজি হয়েছে। সোমবার ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এই দাবি করেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সরাসরি একই ভাষায় নিশ্চয়তা দেয়নি।

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, যদি ইরানের অর্থ ছাড় করা হয়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছাড় করা অর্থ একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে থাকবে এবং তা খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী কেনায় ব্যবহার হবে। তিনি বিশেষভাবে ভুট্টা, গম ও সয়াবিনের কথা উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ওয়াশিংটন অর্থ ছাড়ের বিষয়টিকে মানবিক সহায়তা এবং নিজস্ব কৃষি খাতের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে দেখাতে চাইছে।

    ইরান অবশ্য এই ব্যাখ্যা মানছে না। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরানের অর্থ ছাড় হলে তা দেশটির নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র বলছে অর্থ ব্যবহার হবে নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য, আর ইরান বলছে এই অর্থের ওপর তাদের পূর্ণ অধিকার থাকতে হবে। এই পার্থক্য ভবিষ্যৎ আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    আরেকটি বড় মতভেদ তৈরি হয়েছে পরমাণু পরিদর্শন নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের আবার দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। জে ডি ভ্যান্স এটিকে মার্কিন জনগণের জন্য বড় অগ্রগতি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর মতে, এটি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রথম ধাপ হতে পারে।

    কিন্তু ইরান এই বক্তব্য অস্বীকার করেছে। মঙ্গলবার তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালকের সঙ্গে কোনো বৈঠক হয়নি এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের জন্য কোনো পরিষ্কার সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়নি। এই বক্তব্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিপরীত।

    এখানেই মূল আস্থার সংকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আলোচনার কেন্দ্রে আনতে। কারণ ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত ও নজরদারির মধ্যে না আনলে কোনো স্থায়ী চুক্তি সম্ভব নয়। অন্যদিকে ইরান মনে করছে, পরিদর্শনের প্রশ্নে দ্রুত ছাড় দিলে তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা প্রশ্নে অভ্যন্তরীণ চাপ তৈরি করতে পারে।

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এই বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির অধীনে ইরান ৩.৬৭ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারত, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচিত। সে সময় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকেরা ইরানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেন। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে সরিয়ে নেয়। এরপর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আবার কঠোর হয় এবং ধীরে ধীরে তেহরানও চুক্তির সীমা থেকে সরে আসে।

    বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি, অর্থাৎ ৯৭০ পাউন্ড ইউরেনিয়াম আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ মাত্রার নিচে হলেও, সেখান থেকে আরও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করার পথ তুলনামূলক দ্রুত হতে পারে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটন চায় ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করুক। ইরান বারবার বলেছে, তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই মজুত তুলে দেবে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর বা দেশের ভেতরেই তা পাতলা করার মতো বিকল্প নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    হরমুজ প্রণালির প্রশ্নটিও আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগে এবং তেলের দাম বেড়ে যায়।

    নতুন আলোচনার পর দুই পক্ষ হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বলে জানানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়িয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা। এটি আপাতদৃষ্টিতে ছোট পদক্ষেপ মনে হলেও বাস্তবে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামরিক উত্তেজনার সময়ে একটি ভুল সংকেত বা ভুল হিসাব বড় সংঘর্ষ ডেকে আনতে পারে।

    ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান উচ্চমাত্রার দীর্ঘমেয়াদি পরমাণু পরিদর্শনে রাজি হয়েছে বলেই তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যেও সতর্কবার্তা রয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে অবরোধ আবার কার্যকর করার জন্য জাহাজগুলো প্রস্তুত থাকবে। এই ভাষা থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অংশ নিলেও সামরিক চাপের বিকল্প পুরোপুরি সরিয়ে রাখছে না।

    ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ভিন্ন। তেহরান মনে করছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, আটকে থাকা অর্থ ছাড় এবং তেল রপ্তানির পথ খুলে দেওয়া—এসব আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার। ইরানের অর্থনীতি বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার চাপে আছে। বিদেশি ব্যাংকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আটকে থাকা, তেল বিক্রিতে বাধা, আর্থিক লেনদেনে সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সংকোচন দেশটির অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে। তাই ইরানের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার শুধু কূটনৈতিক দাবি নয়, অর্থনৈতিক টিকে থাকার প্রশ্ন।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রও সহজে পূর্ণ ছাড় দিতে রাজি নয়। ওয়াশিংটনের বড় উদ্বেগ হলো, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ইরান যদি পরমাণু কর্মসূচি সীমিত না করে, তাহলে চুক্তির বাস্তব মূল্য কমে যাবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে মানবিক ও অর্থনৈতিক ছাড়ের কথা বলছে, অন্যদিকে সেই ছাড়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইছে। এখানেই দুই পক্ষের অবস্থানের মৌলিক পার্থক্য।

    এই আলোচনায় কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে এমন মধ্যস্থতা কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার চেষ্টা। বিশেষ করে ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে সংঘাত, পাল্টা হামলা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ চলার পর আলোচনায় বসা নিজেই একটি বড় পরিবর্তন। কিন্তু কেবল আলোচনায় বসা মানেই চুক্তি হয়ে যাওয়া নয়। বরং এখনকার পরিস্থিতি বলছে, প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হলেও চূড়ান্ত সমাধান এখনো দূরে।

    সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দুই পক্ষ কি একই চুক্তিকে একইভাবে বুঝছে? যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান বড় ছাড় দিয়েছে। ইরান বলছে, এমন কিছু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, অর্থ ছাড় হবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায়। ইরান বলছে, অর্থ ব্যবহারে স্বাধীনতা থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, পরিদর্শক ফেরার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। ইরান বলছে, কোনো পরিষ্কার সময়সূচি নেই। এসব পার্থক্য দেখায়, সমঝোতার ভাষা যতই আশাব্যঞ্জক হোক, বাস্তব বাস্তবায়ন আরও কঠিন।

    বর্তমান পরিস্থিতিকে তাই একদিকে সুযোগ, অন্যদিকে ঝুঁকি—দুইভাবেই দেখা যায়। সুযোগ হলো, বহু উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি আলোচনা করছে। তেলের নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য স্থগিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু কার্যক্রম ও নজরদারি নিয়ে কর্মপর্যায়ের আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

    ঝুঁকি হলো, দুই পক্ষের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য বাড়তে থাকলে আস্থা ভেঙে যেতে পারে। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চাপ, ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার—সব মিলিয়ে এই আলোচনার ওপর বহু স্তরের চাপ কাজ করছে। একটি ভুল বার্তা, একটি অতিরঞ্জিত দাবি বা একটি অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যাই পুরো প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিতে পারে।

    সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর একটি সম্ভাব্য পথ খুলেছে। কিন্তু এখনো এটি স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা নয়। তেলের নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও, জমে থাকা অর্থ, পরমাণু পরিদর্শন এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত বাকি। আগামী দিনগুলোতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে—দুই পক্ষ কি একই শর্তে একই ভাষায় সম্মত হতে পারে, নাকি প্রাথমিক আশাবাদ আবারও পুরোনো অবিশ্বাসের মধ্যে হারিয়ে যায়।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিলেও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না ইসরাইল

    জুন 24, 2026
    আন্তর্জাতিক

    হরমুজ প্রণালিতে টোল নিচ্ছে না ইরান: ট্রাম্প

    জুন 24, 2026
    আন্তর্জাতিক

    পরমাণু পর্যবেক্ষকদের সফর নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ইরানের

    জুন 24, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.