আর্জেন্টিনায় ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ মহড়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দেশটির সান হুয়ান প্রদেশে প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বেল ৪১২ মডেলের ইউটিলিটি হেলিকপ্টারটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছালে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে পাহাড়ি এলাকায় এটি বিধ্বস্ত হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া অনুকূল ছিল। ফলে খারাপ আবহাওয়া দুর্ঘটনার কারণ কি না, তা নিয়ে আপাতত কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হেলিকপ্টারটিতে থাকা কর্মকর্তারা জাতীয় অগ্নিনির্বাপণ সংস্থার আয়োজিত বন দাবানল মোকাবিলাবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। প্রায় ৫০ জন জরুরি সেবা সদস্যের জন্য এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল দাবানল মোকাবিলায় সমন্বিত সক্ষমতা বৃদ্ধি।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের উপপ্রধান মার্সেলো ভিদেলা, ফায়ার সার্ভিস প্রধান রুবেন কাস্ত্রো, সিভিল প্রোটেকশনের পরিচালক কার্লোস হেরেদিয়া এবং উপ-ফায়ার প্রধান হোর্হে কারবাহাল। এছাড়া হেলিকপ্টারের আরও তিনজন ক্রু সদস্যও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর একটি স্থানীয় খনি কোম্পানির হেলিকপ্টার প্রথমে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করে। এরপর উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলকে প্রায় সাত মাইল পাহাড়ি পথ হেঁটে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছে, ফলে উদ্ধার কার্যক্রমও ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে হেলিকপ্টারের কারিগরি অবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, আয়তনে প্রায় অস্ট্রিয়ার সমান আধা-শুষ্ক অঞ্চল লা রিওহা কয়েক দিন ধরে ভয়াবহ দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে। স্থানীয় দমকল বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনেই শত শত হেক্টর বনাঞ্চল আগুনে পুড়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দাবানলের তীব্রতা বাড়তে থাকায় জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ চলাকালে এমন দুর্ঘটনা দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

