দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তাকে এবং তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তরুণদের ভুলের জন্য শুধু শাস্তির পথ না বেছে তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করতে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, বিক্ষোভে ব্যবহৃত ভাষা তাকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দিয়েছে। তবে তার বিশ্বাস, তরুণরা ভুল করতে পারে এবং সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ তাদের দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কিছু শিক্ষার্থী তাকে এবং তার প্রয়াত মাকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছে। ঘটনাটি বেদনাদায়ক হলেও তিনি মনে করেন, কঠোর শাস্তি বা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সব সময় সমস্যার সমাধান নয়। বরং ভুল বুঝিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই বেশি কার্যকর।
নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে একটি উদাহরণও তুলে ধরেন মোদি। তিনি বলেন, অনেক সময় নিজের দাঁতেই নিজের জিহ্বা কেটে যায়। এতে রক্ত বের হলেও কেউ দাঁত ভেঙে ফেলে না, কারণ দাঁত ও জিহ্বা—দুটোই নিজের শরীরের অংশ। একইভাবে সমাজের তরুণদেরও দূরে ঠেলে না দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, যারা তাকে গালিগালাজ করেছে, তাদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং সমাজও একই ধরনের ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, ভুল পথে চলে যাওয়া মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সমাজের সবার।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গালিগালাজ বা বিদ্বেষ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই হওয়া উচিত তরুণদের লক্ষ্য। তিনি সবাইকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।
তবে এই বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ওই বিক্ষোভকে ঘিরে আইনি প্রক্রিয়াও চলছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে নয়ডার এক নারীর বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর করা হয়েছে।
গাজিয়াবাদের এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। পরে তদন্তের জন্য মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পাঠানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই ক্ষমার বার্তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে তিনি তরুণদের প্রতি সহনশীলতার বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে আইনি প্রক্রিয়াও চলতে থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক ও আইনগত—উভয় দিক থেকেই আলোচনায় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই বার্তা চলমান বিতর্কের উত্তাপ কতটা কমাতে পারে এবং তরুণদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের ওপর এর কী ধরনের প্রভাব পড়ে।

