ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক একসময় ছিল রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার আলোচিত উদাহরণ। নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের মহাসড়কের পাশে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি দেখা যেত, আর প্রচারে তুলে ধরা হতো তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে। কিন্তু এবার ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর প্রচারপোস্টারে ট্রাম্পের অনুপস্থিতি দুই নেতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ট্রাম্প এখনো নেতানিয়াহুর লিকুদ দলের কিছু প্রচারচিত্রে উপস্থিত থাকলেও তাঁকে প্রকাশ্যে নির্বাচনী সমর্থন দিতে দেখা যায়নি। বরং ইসরায়েলের রাজনীতিতে নিজের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেছেন, দেশটির রাজনীতিতে তিনি আর জড়িত নন। চলতি মাসের শুরুতে সাময়িকী টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ অবস্থান জানান।
বৃহস্পতিবার নিউজম্যাক্সকে দেওয়া বক্তব্যেও ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে নিজের ভালো সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তবে নেতানিয়াহু আবারও নির্বাচিত হওয়া উচিত কি না, সে বিষয়ে সরাসরি সমর্থন জানাননি। নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, রাজনীতির জগতে তিনি কাউকেই বিশ্বাস করেন না।
নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে দীর্ঘদিন ধরে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেই বিবেচনায় ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের ভূমিকার পরিবর্তন
২০১৩ সাল থেকেই নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের উপস্থিতি দেখা গেছে। তখনো তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হননি; ব্যবসায়ী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সে সময় একটি ভিডিও বার্তায় তিনি ইসরায়েলিদের নেতানিয়াহুকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
২০১৭ সালে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পর দুই নেতার রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলে ইসরায়েলের নির্বাচনের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফর করেন। সে সময় ট্রাম্প অধিকৃত গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দিয়ে একটি ঐতিহাসিক ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। নেতানিয়াহু তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন।
২০২০ সালের জানুয়ারিতেও নির্বাচনের পাঁচ সপ্তাহ আগে ট্রাম্প ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে নিজের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যা ‘শতাব্দীর চুক্তি’ নামে পরিচিতি পায়। সেখানেও নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের পাশে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়।
কিন্তু এবারের নির্বাচনের আগে সেই পরিচিত দৃশ্য অনুপস্থিত। আগস্টে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার সর্বশেষ বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা ছিল না। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক গেলেও তাঁদের মধ্যে কোনো বৈঠক হয়নি।
ইরান ও লেবানন নিয়ে মতপার্থক্য
গত এক বছরে নেতানিয়াহুর কয়েকটি পদক্ষেপ ট্রাম্পের অসন্তোষের কারণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলা শান্তি উদ্যোগের মধ্যেই লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য বাড়িয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, লেবাননে আবাসিক ভবনগুলো কেন ধ্বংস করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন।
হোয়াইট হাউসের ভেতরে নেতানিয়াহুর কিছু পদক্ষেপকে নির্বাচনের আগে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, গ্রীষ্মকালে ট্রাম্পের অনেক উপদেষ্টা ধারণা করেছিলেন, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন।
তবে নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে ট্রাম্প তাঁকে কিছুটা ছাড় দিয়েছেন বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। তা সত্ত্বেও ইসরায়েলের এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর বিরক্তি বেড়েছে, যেগুলোকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করেন।
ট্রাম্পের সমর্থন না দেওয়ার পেছনে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী অবস্থানও একটি কারণ হতে পারে। ট্রাম্প সাধারণত এমন প্রার্থীদের প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকেন, যাঁদের জয়ের সম্ভাবনা দুর্বল বলে মনে হয়।
গত কয়েক মাসে কথোপকথনের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে আত্মবিশ্বাস দেখালেও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের দুর্বলতা সম্পর্কে ট্রাম্প অবগত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলেও কমেছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়েনের পাশাপাশি ইসরায়েলের জনগণের মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আস্থার পরিবর্তন দেখা গেছে।
গত ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছিলেন, ট্রাম্পকে ইসরায়েল পুরস্কার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তিনি প্রথম অ-ইসরায়েলি ব্যক্তি হিসেবে দেশটির এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল। নেতানিয়াহুর সহযোগীরা আশা করেছিলেন, ট্রাম্প এপ্রিল মাসে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের ধারণা ছিল, এমন সফর নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে গতি আনবে।
কিন্তু এরপর শুরু হয় ইরান যুদ্ধ। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হলে দুই নেতা প্রকাশ্যে নিজেদের কৌশলগত ঐক্যের কথা তুলে ধরেন। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে নিজের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি এমন একজন নেতা, যিনি নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁদের দুজনকে ‘যুদ্ধের নায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সময়ে তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের প্রতি নেতানিয়াহুর চলমান দুর্নীতি মামলায় তাঁকে ক্ষমা করার আহ্বান জানান।
তবে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল পুরস্কারের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখাননি। তত দিনে ইরানে যুদ্ধ থেমে গিয়েছিল এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছিল।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী সমঝোতা স্মারক ইসরায়েলের একটি বড় অংশের কাছে, বিশেষ করে ডানপন্থীদের কাছে, অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর নেতানিয়াহু-সমর্থক টেলিভিশন উপস্থাপক ইয়িনন মাগাল ট্রাম্পকে ‘পরাজিত’ বলে আখ্যা দেন।
ইহুদি জনগোষ্ঠী নীতি ইনস্টিটিউটের জুলাই মাসের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্প সঠিক পদক্ষেপ নেবেন—এমন বিষয়ে মাত্র ৭ শতাংশ ইসরায়েলির তাঁর ওপর ‘অনেক বেশি আস্থা’ রয়েছে। বিপরীতে, ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, এ বিষয়ে ট্রাম্পের ওপর তাঁদের কোনো আস্থা নেই।
লিকুদ দলের একটি সূত্রের ভাষ্য, বিশেষ করে ডানপন্থী ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা কমেছে। ফলে তাঁর প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুকে আগের মতো নির্বাচনী সুবিধা দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। দলের আরেকটি সূত্রের মতে, ট্রাম্প অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে সমর্থন করবেন না—এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সমর্থন পাওয়া ভালো হলেও তা এখন আর অপরিহার্য নয়।
বিরোধীদের অবস্থানেও পরিবর্তন
নেতানিয়াহুর বিরোধীরা ট্রাম্পের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় আগের মতো উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে না।
ইসরায়েলের বিরোধী শিবিরের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এক বছর আগে তাঁদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন ঘোষণা ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তাঁদের কাছে বিষয়টি আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ নয়।
বিরোধী শিবিরের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, তারা হোয়াইট হাউসকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সে অবস্থান বজায় রাখায় তারা সন্তুষ্ট।
নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জরিপে এগিয়ে থাকা ব্যক্তির বিষয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার কথাও বলেন। তাঁর ভাষায়, অতীতেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, যেমনটা তাঁকেও করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাবের প্রভাব
ট্রাম্পের দূরত্ব বজায় রাখার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জনমতও ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইসরায়েলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে।
জরিপগুলোর হিসাবে, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গড় নিট অনুকূলতার সূচক ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ছিল ৫১ পয়েন্ট। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা নেমে দাঁড়ায় ঋণাত্মক ১৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ আট বছরে সূচকটির পতন হয়েছে ৬৭ পয়েন্ট।
সম্পর্কের বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের মতে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত দ্রুত নেতিবাচক হয়ে ওঠায় ট্রাম্প এমন ধারণা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইছেন যে নেতানিয়াহুই তাঁকে এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন।
তবে প্রকাশ্য দূরত্ব মানেই যে দুই নেতার মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, তা নয়। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর দাবি, সম্প্রতি ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নতুন হামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে সম্ভাব্য হামলার সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
নেতানিয়াহু অবশ্য নির্বাচনের আগে ইরানে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। চলতি সপ্তাহে আর্মি রেডিওকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, পরিস্থিতি তাঁদের জন্য সুবিধাজনক নয়। ইরান যদি ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, তাহলে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁকেই দায়ী করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের বর্তমান অবস্থায় ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি যুদ্ধনীতি, শান্তি উদ্যোগ, জনমত এবং নির্বাচনী হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একসময় ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারের বড় অংশ ছিল। এবার সেই সমর্থন অনুপস্থিত, আর দুই দেশের জনমত ও রাজনৈতিক বাস্তবতাও বদলেছে।
তবে ইরান নিয়ে নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা এবং দুই নেতার মধ্যে যোগাযোগের খবর বলছে, তাঁদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত নয়। আসন্ন নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ থাকবেন, নাকি শেষ মুহূর্তে অবস্থান বদলাবেন—সেদিকে নজর থাকবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনের।

