ইসরায়েলের নির্বাচনে এমন এক রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যা দেশটির দীর্ঘদিনের ক্ষমতার রাজনীতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট যেমন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি, তেমনি তাঁর বিরোধীরাও এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই। এর মধ্যেই ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটদানের হার বৃদ্ধি এবং আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণ শেষে ইসরায়েলের তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের জন্য প্রায় ৫২ থেকে ৫৫টি আসন এবং তাঁর বিরোধী শিবিরের জন্য ৪৯ থেকে ৫১টি আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়। একই জরিপগুলোতে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৭ থেকে ১৯ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
এছাড়া, আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। আরব লিস্ট পেতে পারে ১৯টি আসন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। বুথফেরত জরিপ চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নয়। ২৮ অক্টোবর সকালে আংশিক সরকারি গণনায় নেতানিয়াহুর জোট ৫৫টি, বিরোধী জোট ৪৯টি এবং আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৬টি আসনের সমতুল্য অবস্থানে ছিল। তখন প্রায় ৪১.৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের হিসাব প্রকাশিত হয়েছিল এবং গণনা চলছিল। তাই চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে কোনো পক্ষের জয় বা পরাজয় নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করা যায় না।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। অর্থাৎ, সবচেয়ে বড় দল হওয়া আর সরকার গঠনের ক্ষমতা অর্জন করা এক বিষয় নয়। ফলে কোনো পক্ষেরই সরকার গঠনের পথ এখনও নিশ্চিত নয়।
তারপরও নির্বাচনের একটি দিক স্পষ্ট- ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোট এবং তাঁদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সম্ভাব্য সংসদীয় শক্তি সরকার গঠনের হিসাবকে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। প্রশ্ন হলো, এই ভোট কি শুধু নেতানিয়াহুর জোটকে চাপে ফেলেছে, নাকি ইসরায়েলের রাজনীতিতে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের ধারণাও বদলে দিচ্ছে?

ভোটের জোয়ার, ক্ষমতায় ধাক্কা
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। তাঁরা ইসরায়েলের নাগরিক হিসেবে নির্বাচনে ভোট দিতে এবং নেসেটে প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন। কিন্তু তাঁদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো ঐতিহাসিকভাবে দেশটির সরকার গঠনের মূল সমীকরণ থেকে অনেক সময় দূরে থেকেছে।
এবারের নির্বাচনে সেই চিত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আল-জাজিরার ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি সম্প্রদায়ের ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। এটি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত। একই সময়ে ইসরায়েলজুড়ে মোট ভোটদানের হার ছিল ৭৭.৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি।
এই অংশগ্রহণের পেছনে শুধু নেতানিয়াহুবিরোধী মনোভাব কাজ করেছে, এমন নয়। আরব অধ্যুষিত বিভিন্ন শহরের ভোটারদের বক্তব্যে সহিংস অপরাধ, নিরাপত্তাহীনতা, আবাসনসংক্রান্ত সমস্যা এবং বর্তমান সরকারের প্রতি ক্ষোভের বিষয়ও উঠে এসেছে। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কঠোর নীতি ও আরব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের সংগঠিত করতে সাহায্য করেছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনটি হলো, ভোটারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো নিজেদের সংসদীয় গুরুত্ব বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। তাঁদের ভোট একদিকে নিজস্ব সম্প্রদায়ের সমস্যা তুলে ধরার শক্তি, অন্যদিকে সরকার গঠনের সমীকরণে দর-কষাকষির সম্ভাবনাও তৈরি করছে।
তবে এটিকে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রাজনৈতিক অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী এবং তাঁদের প্রত্যাশাও এক নয়। কেউ নাগরিক অধিকার ও বৈষম্য দূর করার ওপর জোর দেন, কেউ নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনকে অগ্রাধিকার দেন, আবার কেউ ফিলিস্তিনি জাতীয় অধিকারকে রাজনৈতিক সংগ্রামের কেন্দ্রে রাখেন। এবারের ভোটে তাঁদের অংশগ্রহণের তাৎপর্য হলো, এই ভিন্ন প্রত্যাশাগুলো সম্মিলিতভাবে সংসদীয় হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

১৮ আসন, কিন্তু সরকারে জায়গা কোথায়?
নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাঁধা এখানেই। বুথফেরত জরিপে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৭ থেকে ১৮ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। এটি সত্য হলে বর্তমান নেসেটে তাঁদের ১০টি আসনের তুলনায় বড় বৃদ্ধি হবে। ২০২০ সালে জয়েন্ট লিস্ট নামে পরিচিত যৌথ তালিকা ১৫টি আসন পেয়েছিল, যা ছিল আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আগের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর একটি।
কিন্তু বেশি আসন পাওয়া আর সরকারে অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়। ইসরায়েলের প্রধান ইহুদি-নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর কয়েকটি নির্বাচনী প্রচারণার সময় আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোটে যাওয়ার বিরোধিতা করেছে। ফলে নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবিরের কাছে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা থাকলেও, তা বাস্তবে রূপ দিতে রাজনৈতিক বাধা রয়েছে।
অন্যদিকে, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর মধ্যেও অবস্থানের পার্থক্য আছে। রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জয়েন্ট লিস্টও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখার বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা খোলা রেখেছে। তবে সরকারে সরাসরি যোগ দেওয়া, বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়া এবং আস্থা ভোটে বিরত থাকার মধ্যে রাজনৈতিক পার্থক্য রয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় হিসাব কাজ করছে। যদি ইহুদি-নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো ৫২ বা ৫৩টি আসন পায় এবং আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৭ বা ১৮টি আসন পায়, তাহলে সংখ্যার হিসাবে তাঁদের সম্মিলিত অবস্থান ৬১ আসনের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু সব আসন একসঙ্গে যোগ করলেই কার্যকর সরকার তৈরি হয় না। দলগুলোর মধ্যে নীতিগত সমঝোতা, আস্থা ভোটে সমর্থন এবং সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্য প্রয়োজন।
তাই আরব দলগুলোকে এখনই নিশ্চিত ‘কিংমেকার’ বলা কিছুটা আগাম সিদ্ধান্ত হবে। তবে তাদের সমর্থন বা বিরত থাকার সিদ্ধান্ত সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নেতানিয়াহুর বিরোধীরা যদি আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতার পথ বন্ধ রাখে, তাহলে সংখ্যার হিসাবে সম্ভাব্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও তারা সরকার গঠনে ব্যর্থ হতে পারে।
নেতানিয়াহুর কৌশল, বিরোধীদের দ্বিধা
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবকে তাঁর সমর্থকদের সামনে নিরাপত্তা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন। এবারের নির্বাচনী প্রচারণাতেও আরব ভোটারদের বেশি অংশগ্রহণ নিয়ে তাঁর সতর্কবার্তা আলোচনায় এসেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরব ভোটের সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছিলেন। আরব রাজনীতিকেরা তাঁর বক্তব্যকে বিভাজনমূলক বলে সমালোচনা করেন।

রাজনৈতিকভাবে এই কৌশলের উদ্দেশ্য ছিল নিজের ডানপন্থী সমর্থকদের ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করা। কিন্তু এর বিপরীত প্রভাবও তৈরি হয়ে থাকতে পারে। আরব সম্প্রদায়ের কিছু ভোটার মনে করেছেন, তাঁদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে নিরাপত্তা-সংকট হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এই অনুভূতি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ বাড়িয়েছে বলে কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনে ভোটারদের বক্তব্য উঠে এসেছে।
তবে বিরোধী শিবিরের সামনে আরও জটিল সমস্যা রয়েছে। গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট, ইয়ার লাপিদ ও আভিগদোর লিবারম্যান- নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হলেও তাঁদের সবার রাজনৈতিক অবস্থান এক নয়। বিশেষ করে ফিলিস্তিন প্রশ্ন, নিরাপত্তা নীতি এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে তাঁদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
আইজেনকটের মতো নেতারা নেতানিয়াহুর প্রতি অনাস্থাকে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে হলে তাঁদের এমন রাজনৈতিক সমঝোতায় যেতে হতে পারে, যা নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে গ্রহণ করতে তাঁরা অনেকে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন।
এখানেই ইসরায়েলের রাজনীতির বড় দ্বন্দ্বটি সামনে আসে: আরব নাগরিকদের ভোট গ্রহণ করা হবে, তাঁদের প্রতিনিধিত্ব সংসদে বাড়বে, কিন্তু তাঁদের দলগুলোকে সরকার গঠনের অংশীদার হিসেবে কতটা গ্রহণ করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে এবারের নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্য কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
ফিলিস্তিনি ভোটের ঐতিহাসিক তাৎপর্য
এই নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব শুধু আসনসংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। গাজা যুদ্ধ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা, আরব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁরা ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কয়েকজন ফিলিস্তিনি নাগরিক বলেছিলেন, তাঁদের কাছে ভোট দেওয়া নিজেদের অস্তিত্ব, অধিকার ও ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত।
তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অর্থ এই নয় যে ইসরায়েলের রাজনৈতিক বা সামাজিক কাঠামোয় বৈষম্য দূর হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সংসদীয় শক্তি বাড়লেও তাঁদের সরকারে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন এখনো অনিশ্চিত। একইভাবে সরকার গঠনে তাঁদের সমর্থন প্রয়োজন হলেও সেই সমর্থনের বিনিময়ে নাগরিক অধিকার, স্থানীয় নিরাপত্তা, আবাসন ও সরকারি তহবিলের মতো বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য তাই এবারের নির্বাচনের তাৎপর্য দুটি স্তরে। প্রথমত, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উচ্চ অংশগ্রহণ দেখিয়েছে যে তাঁরা শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা একটি সম্প্রদায় নন; তাঁদের ভোটের মাধ্যমে সংসদীয় সমীকরণ প্রভাবিত করার ক্ষমতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই ক্ষমতা বাস্তব রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করবে কি না, তা নির্ভর করছে অন্যান্য দলের সঙ্গে সহযোগিতা ও সরকার গঠনের সিদ্ধান্তের ওপর।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, ইসরায়েলের রাজনৈতিক দলগুলো কি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটকে শুধু নির্বাচনী অঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করবে, নাকি তাঁদের প্রতিনিধিত্বকে সরকার পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণের বাস্তব অংশীদারত্বে রূপ দিতে প্রস্তুত হবে?
চূড়ান্ত ফল এবং পরবর্তী জোট-আলোচনা সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে। বুথফেরত জরিপে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য রেকর্ড আসনসংখ্যা নিঃসন্দেহে ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু সেই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে ভোটের সংখ্যাকে রাজনৈতিক প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবকে বাস্তব নীতিগত অগ্রগতিতে রূপান্তর করা যায় কি না, তার ওপর।

