ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট ও বিরোধী নেতা ইয়াইর গোলানের বক্তব্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খামেনিকে হত্যার পর ইরানে আরও কঠোর নেতৃত্বের উত্থান, সামরিক সাফল্যের পরও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে ইসরায়েল আসলে কী অর্জন করেছে? দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার পর ইরান কি দুর্বল হয়েছে, নাকি দেশটির ক্ষমতায় এমন এক নেতৃত্ব উঠে এসেছে, যাকে মোকাবিলা করা আরও কঠিন?
প্রশ্নগুলো এখন শুধু ইরানের সমর্থক কিংবা ইসরায়েলের সমালোচকেরা তুলছেন না। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট এবং দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ইয়াইর গোলানের বক্তব্যেও একই উদ্বেগ উঠে এসেছে।
সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের পডকাস্ট (আরবভিউস)-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলমার্ট খামেনিকে হত্যার কৌশলগত লাভ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, আলি খামেনিকে হত্যার পর ক্ষমতায় এসেছেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি, যিনি বাবার তুলনায় আরও কঠোর অবস্থানের নেতা বলে মনে হচ্ছে। ফলে ইসরায়েল একজন দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রতিপক্ষকে সরিয়ে এমন একজনের মুখোমুখি হয়েছে, যার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অনিশ্চয়তা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি।
অন্যদিকে ইসরায়েলের ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়াইর গোলান আরও স্পষ্ট ভাষায় খামেনিকে হত্যার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, এই হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলের জাতীয় স্বার্থে প্রত্যাশিত ফল আনেনি। বরং ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তনের ফলে দেশটির সঙ্গে সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

দুই নেতার বক্তব্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি মিল রয়েছে। তাঁরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন না। তাঁদের প্রশ্ন, এত বড় সামরিক অভিযানের পর ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হয়েছে? কারণ শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা এক বিষয়, আর প্রতিপক্ষের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে দুর্বল করে স্থায়ী রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
ওলমার্টের প্রশ্ন: এক খামেনিকে সরিয়ে আরেক খামেনিকে আনার লাভ কী?
আরব ভিউস-এর পডকাস্টে ইরান প্রসঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে সঞ্চালক ওলমার্টের কাছে জানতে চান, ইয়াইর গোলান খামেনিকে হত্যাকে ভুল সিদ্ধান্ত বলেছেন—তিনিও কি সেই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত?
জবাবে ওলমার্ট প্রথমেই স্বীকার করেন, অভিযানের সব তথ্য তাঁর জানা নেই। এরপর তিনি বলেন, আলি খামেনিকে হত্যার ফলে আরেকজন খামেনি ক্ষমতায় এসেছেন, যিনি তাঁর বাবার চেয়েও বেশি চরমপন্থী ও কঠোর বলে মনে হচ্ছে।
ওলমার্টের বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল তাঁর পাল্টা প্রশ্ন। তিনি বলেন, আগে ইসরায়েলের সামনে ছিলেন ৭৬ বছর বয়সী একজন খামেনি। এখন তাঁর জায়গায় রয়েছেন ৫৩ বা ৫৪ বছর বয়সী আরেকজন খামেনি, যিনি আরও কঠোর অবস্থানের বলে মনে হচ্ছে। তাহলে এই পরিবর্তনে এত বড় অর্জন কোথায়?
পডকাস্টের আলোচনায় ওলমার্ট এসব কথা বলেন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ওলমার্ট সরাসরি বলেননি যে তিনি খামেনিকে হত্যার সিদ্ধান্তকে ভুল বলে স্বীকার করছেন। তবে তাঁর বক্তব্যে এই সিদ্ধান্তের কৌশলগত যৌক্তিকতা নিয়ে স্পষ্ট সংশয় প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে ইয়াইর গোলান সিদ্ধান্তটিকে ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ওলমার্টের এই মূল্যায়নের পেছনে রয়েছে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর বাস্তবতা। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হলেও তাঁর ওপরই পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ভর করে না। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং প্রশাসনিক কাঠামোর সমন্বয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
ফলে একজন সর্বোচ্চ নেতাকে সরিয়ে দিলেই সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং যুদ্ধের মধ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ওলমার্টের উদ্বেগ মূলত সেখানেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলি খামেনিকে হত্যার পর ইসরায়েল এমন কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন পায়নি, যা নিশ্চিতভাবে তার নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। তবে মোজতবা খামেনি বাস্তবে বাবার চেয়ে কতটা কঠোর কিংবা তাঁর নেতৃত্বে ইরানের নীতিতে কী পরিবর্তন এসেছে, তা মূল্যায়নের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।
ইয়াইর গোলানের স্বীকারোক্তি: সামরিক সাফল্য কি কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে?
ইয়াইর গোলানের বক্তব্য ওলমার্টের তুলনায় আরও সরাসরি। গত ৯ অক্টোবর ইসরায়েলের রিশন লেজিয়ন শহরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আলি খামেনিকে হত্যা করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তাঁর যুক্তি, এই অভিযান ইসরায়েলের জাতীয় স্বার্থ পূরণ করেনি। বরং ইরানের পুরোনো নেতৃত্ব সরে যাওয়ার পর আরও কঠোর ও সংঘাতমুখী ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এবং দ্য জেরুজালেম পোস্ট তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করেছে। গোলান বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একজন প্রবীণ নেতার সঙ্গে মোকাবিলার ক্ষেত্রে কিছু কৌশলগত সুবিধা থাকে। তাঁর অবস্থান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন সম্পর্কে প্রতিপক্ষের ধারণা তৈরি হয়। আলি খামেনির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সেই অভিজ্ঞতা ছিল।
গোলানের অভিযোগ, নেতানিয়াহু ইরানের সরকার পরিবর্তনের মতো একটি অবাস্তব লক্ষ্য সামনে রেখেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দিয়েছিলেন যে, সামরিক আঘাতে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। গোলানের মতে, যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কোনো কার্যকর কূটনৈতিক পরিকল্পনাও ছিল না।

পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়নি, রাজনৈতিক পরিকল্পনাও ছিল না: ওলমার্ট
ওলমার্টের পডকাস্ট সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন।
সঞ্চালক যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিশ্চিহ্ন হওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন, তখন ওলমার্ট সেই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু পুরো কর্মসূচি ধ্বংস হয়নি।
ওলমার্ট ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর অভিযানের সক্ষমতার প্রশংসা করেন। ইরানের মতো দূরবর্তী দেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মোকাবিলা করার বিষয়টিকে তিনি উল্লেখযোগ্য সামরিক অর্জন হিসেবে দেখেন।
কিন্তু এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় সামরিক সাফল্যকে রাজনৈতিক সমঝোতায় রূপ দেওয়া গেল না কেন?
তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল- উভয় দেশের নেতৃত্বেরই দূরদর্শিতার অভাব ছিল। যুদ্ধের পর ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে কী ধরনের চাপ তৈরি হবে, সেই ঝুঁকি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
পডকাস্টের আলোচনায় ওলমার্ট আরও অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ খোলা রাখতে চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, এর পেছনে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থও কাজ করে থাকতে পারে।
এটি অবশ্য ওলমার্টের রাজনৈতিক মূল্যায়ন। নেতানিয়াহুর প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ওলমার্টের বক্তব্যে যে বিষয়টি বারবার ফিরে এসেছে, তা হলো যুদ্ধের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিকল্পনার অভাব। তাঁর অভিযোগ, গাজা কিংবা ইরান—কোনো ক্ষেত্রেই নেতানিয়াহু সরকার সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার পর কীভাবে স্থায়ী রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে, তার কার্যকর রূপরেখা তৈরি করতে পারেনি।

খামেনিকে হত্যা করেও কেন ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে গেল?
এই বিতর্কের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক দিক বুঝতে হলে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর দিকে তাকাতে হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেও দেশটির ক্ষমতা শুধু একজন ব্যক্তির হাতে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী, সামরিক নেতৃত্ব, গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় পরিষদ এবং প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতার বিভিন্ন স্তর রয়েছে।
ফলে শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ চালিয়ে যেতে পারে। এমনকি বাইরের সামরিক আক্রমণ কখনো কখনো শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা সাময়িকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। কারণ যুদ্ধের সময় ক্ষমতাসীন বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করতে পারে।
তবে এটিও সব পরিস্থিতিতে ঘটে না। নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর কোনো রাষ্ট্র দুর্বল হবে, নাকি আরও কঠোর অবস্থান নেবে, তা নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য, সামরিক সক্ষমতা, জনসমর্থন এবং আন্তর্জাতিক চাপের ওপর।
ইরানের ক্ষেত্রে আলি খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনির ক্ষমতায় আসা দেখিয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্বে বড় আঘাত এলেও দেশটির বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামো টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে।
এখানেই ওলমার্ট ও গোলানের সমালোচনা মিলেছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল একজন দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষকে সরাতে পেরেছে, কিন্তু তার ফলে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা অর্জিত হয়নি।
তবে মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার চেয়ে বেশি কঠোর – এই মূল্যায়নকে এখনো স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য বলা যায় না। এটি দুই ইসরায়েলি নেতার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত আশঙ্কা।

মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এই বিতর্কের অর্থ কী?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পরিণতি শুধু ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক গুরুত্ব, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার প্রভাবে শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়েছে।
ওলমার্টের সমালোচনায় এই অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথাও উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক অভিযান পরিচালনার আগে প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ এবং যুদ্ধের পরবর্তী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি ছিল।
অন্যদিকে গোলান মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অর্জনকে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ ছিল। কিন্তু নেতানিয়াহু সরকার সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
অবশ্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির সমর্থকদের যুক্তি ভিন্ন। তাঁদের মতে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতায় আঘাত হানা ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে একটি অভিযানের মূল্যায়ন শুধু তাৎক্ষণিক সরকার পরিবর্তনের ফল দিয়ে করা উচিত নয়।

এই দুই অবস্থানের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, এক পক্ষ সামরিক অভিযানে প্রতিপক্ষের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্য পক্ষ প্রশ্ন তুলছে সেই অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ফলাফল নিয়ে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ এই বিতর্ক তাই মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক বাস্তবতার একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। কোনো দেশের শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা সম্ভব হলেও তার ফলে সেই রাষ্ট্রের নীতি বদলাবে, শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে কিংবা আঞ্চলিক সংঘাত কমে যাবে- এমন নিশ্চয়তা দেওয়া খুবই আত্মঘাতী।
ওলমার্ট ও গোলানের বক্তব্যের সারকথাও সেখানেই। খামেনিকে হত্যার অভিযান সামরিকভাবে বড় ঘটনা হলেও এর রাজনৈতিক ফল নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন। গোলান সরাসরি খামেনীকে হত্যার সিদ্ধান্তটিকে ভুল বলেছেন। ওলমার্ট প্রশ্ন তুলেছেন, পুরোনো খামেনির জায়গায় আরও কঠোর বলে বিবেচিত নতুন খামেনি ক্ষমতায় আসার পর ইসরায়েলের প্রকৃত অর্জন কোথায়!?
শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের উত্তর নির্ভর করবে আগামীতে ইরানের নেতৃত্বের বিস্তৃত নীতি, দেশটির সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের রাজনৈতিক পরিণতির ওপর। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করা আর দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়।
প্রতিবেদনের ভিত্তি: ARAB VIEWS পডকাস্টে এহুদ ওলমার্টের সাক্ষাৎকারের প্রদত্ত প্রতিলিপি, ইয়াইর গোলানের বক্তব্যসংক্রান্ত ইয়েনেট, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন।

