রাশিয়া ও ইউক্রেন শিগগিরই যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দুই ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপের পর এই ঘোষণা দেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্প ওই ফোনালাপকে ‘খুব ফলপ্রসূ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার শর্তাবলি দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই নির্ধারণ করবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে তারা প্রস্তুত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ বলে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রকে এই আলোচনায় সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি জেলেনস্কিকেও আলোচনা শুরুর বিষয়টি অবহিত করেছেন। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, ফ্রান্স, জার্মানি, ফিনল্যান্ড এবং ইতালির নেতাদের সঙ্গেও দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, “এই আলোচনা অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে এতে একমাত্র লাভবান হবেন পুতিন।”
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, রাশিয়া যুদ্ধবিরতির একটি সময়সীমাসহ শান্তিচুক্তির একটি খসড়া তৈরির বিষয়ে রাজি রয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ট্রাম্প দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করতে আগ্রহী বলে জানিয়ে, রুশ উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, আলোচনা চলছে এবং একটি কাঠামোবদ্ধ সমঝোতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে দুই দেশ।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন পূর্ণ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির পক্ষে। তবে রাশিয়া এই প্রস্তাবে সাড়া না দিলে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন হবে। তিনি সতর্ক করে দেন, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে যেন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়।
“পুতিনের প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া এখনও আমাদের হাতে পৌঁছেনি” বলেন জেলেনস্কি, “যখন পাব, তখনই আমরা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাব।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়া ন্যাটো, ওএসসিই ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নয়- এই মর্মে নিশ্চয়তা চাওয়া হয়। তবে পশ্চিমা শক্তিগুলো সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হয়।

