যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি উপেক্ষা করে রাশিয়া বৃহস্পতিবার ভোররাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং প্রায় ১৪৫ জন আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছে ছয় বছরের এক শিশু ও তার মা। আহতদের মধ্যে ১৪ জন শিশু রয়েছেন। হামলায় কিয়েভের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, প্রবেশপথও বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধার করতে এখনো কাজ চালাচ্ছেন।
কিয়েভের মেয়র এই হামলাকে শহরে সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, এক রাতেই রাশিয়া ৩০৯টি ড্রোন এবং ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা ২০২২ সালের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একক হামলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক। শহরের ২০টির বেশি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ৮ আগস্টের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। সময়সীমা পার হলে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেন তিনি। কিন্তু রাশিয়া এই হুমকি উপেক্ষা করে সামরিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।
ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা অনেক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
এ সময় রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অগ্রগতি দাবি করেছে। তারা বলছে, পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের কৌশলগত শহর চাসিভ ইয়ার এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। তবে ইউক্রেন সেনাবাহিনী এই দাবিকে খণ্ডন করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি রাশিয়ার ওপর কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুদ্ধ থামার পরিবর্তে আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।

