রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে ওয়াশিংটনে ফিরেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও বৈঠকের পর তিনি তা বাস্তবায়ন করেননি।
গত শুক্রবার আলাস্কায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে বসেন ট্রাম্প ও পুতিন। ইউক্রেন আক্রমণের পর এটাই ছিল কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পুতিনের প্রথম বৈঠক। বৈঠকের পর ট্রাম্প দাবি করেন, সমাধানের দিকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। তাই তার পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় নিজ দল রিপাবলিকানদের ভেতর থেকেও।
রক্ষণশীল ভাষ্যকার বিল ও’রেইলি বলেন- আলোচনায় কোনো বাস্তব ফল আসেনি। এখনই ট্রাম্পকে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বৈঠককে ইতিবাচক বলেছেন, তবে আশা প্রকাশ করেছেন বড়দিনের আগেই যুদ্ধবিরতি হতে পারে।
অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, ট্রাম্প হয়তো ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর চাপ দিয়ে কোনো সমঝোতা চাপিয়ে দেবেন। তবে তা ঘটেনি। বরং তিনি পুতিনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং তাদের সম্পর্ককে “অসাধারণ” বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকের পর পুতিন দাবি করেন, কিছু “সমঝোতা” হয়েছে যা ইউক্রেন সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প বলেন, “চুক্তি না হলে কোনো চুক্তিই নেই।”
হোয়াইট হাউস এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ডেমোক্র্যাটরা বিষয়টিকে বিপজ্জনক মনে করছেন। সেনেটের ডেমোক্র্যাট জ্যাক রিড বলেন, “শান্তি সবাই চায় কিন্তু তা হতে হবে দায়িত্বশীলভাবে। পুতিনকে যেভাবে লাল গালিচা দেওয়া হয়েছে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান মাইক কুইগলি আরও কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “ট্রাম্প পুতিনকে লাল গালিচায় স্বাগত জানালেন, আর পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র পেলেন।”
রিপাবলিকানদের মধ্যেও সতর্কতা দেখা গেছে। পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক বলেন, “স্থায়ী শান্তি সম্ভব কেবল মিত্রদের সঙ্গে, বিশেষ করে ইউক্রেনকে পাশে নিয়ে।”
অন্যদিকে, মার্কিন থিংক ট্যাংক ‘ডিফেন্স প্রাইওরিটিজ’ জানায়, বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হলেও যুদ্ধ এখনই থামবে না। কারণ পুতিনের সামরিক সুবিধা রয়েছে এবং ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও স্বস্তি পাননি ট্রাম্প। প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে বলেন, সাক্ষাৎকার দেওয়াই উচিত হয়নি। যদিও তিনি জানান, ভূখণ্ড বিনিময় ও কিয়েভের নিরাপত্তা নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাকফল বলেন, “আলাস্কার বৈঠক দ্বিতীয় ইয়াল্টা হয়নি। এটিই ভালো খবর, যদিও মানদণ্ডটা খুব নিচু।”
সবশেষে ট্রাম্প জানান, এখন আলোচনার দায়িত্ব মূলত ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর।

