ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন মোড় আসছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনের নেতারা রোববার (১৭ আগস্ট) ইউক্রেনকে কূটনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে রাখার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য।
ট্রাম্প এখন ইউক্রেনকে যুদ্ধ শেষ করার জন্য এক ধরনের সমঝোতা মেনে নিতে চাপ দিচ্ছেন। আলাস্কায় সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানালেন, পুতিন ছোটখাটো কিছু দখলকৃত এলাকা ছাড়তে রাজি—কিন্তু বিনিময়ে বিশাল অংশ ধরে রাখতে চান। ইউক্রেনের জন্য এমন দাবি মেনে নেওয়া কার্যত অসম্ভব।
ইউরোপীয় শক্তিগুলো তাই দ্রুত উদ্যোগ নিচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার রবিবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকছেন, যেখানে ইউক্রেনকে সমর্থন বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও শক্তভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা হবে। তাদের লক্ষ্য, ট্রাম্প-পুতিন-জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পথ তৈরি করা এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করা।
এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই বৈঠকে আলোচনা হবে—ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেরা কী করতে পারবে, ‘কোলিশন অব দ্য উইলিং’ নামে মিত্র জোট কী করবে, আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা কী আশা করছে।
এদিকে ট্রাম্প বলছেন, ইউক্রেনের উচিত রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া, কারণ “রাশিয়া অনেক বড় শক্তি, আর ইউক্রেন নয়।” আলাস্কা বৈঠকের পর তিনি জেলেনস্কিকে ফোনে জানিয়েছেন, কিয়েভ যদি পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল ছেড়ে দেয়, তবে রাশিয়া ফ্রন্টলাইনের বেশিরভাগ জায়গায় স্থিতিশীল হতে রাজি। সূত্র বলছে, জেলেনস্কি এই প্রস্তাব সোজাসুজি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে দোনেৎস্ক প্রদেশের বড় অংশও রয়েছে। পুতিন আরও জানিয়ে দিয়েছেন—ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদে রাশিয়ার ভেটো দাবি তিনি ছাড়বেন না।
এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কির সামনে কঠিন সময়। ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ ওয়াশিংটন সফরে তিনি ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রকাশ্য সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন। তবে এবার জার্মান চ্যান্সেলর মের্জ আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি এতটা কঠিন হবে না। তার ভাষায়, “আমরা জেলেনস্কিকে কিছু ভালো পরামর্শ দেব।”
ইতোমধ্যে ইউক্রেনের আকাশে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাতে মস্কো ৬০টি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, যার মধ্যে ৪০টি ভূপাতিত বা জ্যাম করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনীয় সেনারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক রাশিয়ার জন্য একধরনের জয়—কারণ ট্রাম্প তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির দাবি থেকে পিছিয়ে এসেছেন। তবে ইতিবাচক দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় কিছু ভূমিকা রাখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
সবশেষে মূল প্রশ্ন থেকে যায়—যদি কোনো চুক্তি হয়ও, সেটি কি ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে, নাকি রাশিয়াকে ভবিষ্যতের আরও বড় হামলার সুযোগ করে দেবে?

