প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও চীনের সাবমেরিন প্রশান্ত মহাসাগরে যৌথ টহল অভিযান পরিচালনা করেছে। শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, আগস্টের শুরু থেকে ডিজেল ও বৈদ্যুতিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের এই টহল কার্যক্রম শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে সাবমেরিন ভলখভ রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তক নৌঘাঁটি থেকে দুই হাজার মাইল অতিক্রম করে। টহল চলাকালে দুই দেশের সাবমেরিন জাপান সাগর ও পূর্ব চীন সাগরেও অভিযান পরিচালনা করে।
চীন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বুধবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে চীনের সামরিক বিশেষজ্ঞ ঝাং জুনশের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, “প্রথমবারের মতো যৌথ সাবমেরিন টহল চীন-রাশিয়ার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত আস্থার ইঙ্গিত দেয়। সাবমেরিনের মধ্যে যোগাযোগের জন্য শুধু কারিগরি দক্ষতা নয়, ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাও প্রয়োজন।”

তিনি আরো জানান, যৌথ টহল ও মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনী সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।
গত কয়েক বছর ধরে চীন ও রাশিয়া তাদের সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যৌথ বিবৃতিতে “সহযোগিতার কোনো সীমা নেই” বলে উল্লেখ করেন। ২০২১ সালে প্রথমবার দুই দেশের ১০টি যুদ্ধজাহাজ জাপানের আশপাশের এলাকায় টহল দেয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম তাস জানায়, এসব টহলের মূল লক্ষ্য দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানো, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ এবং চীন-রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো রক্ষা করা।

২০২৩ সাল থেকে আলাস্কার কাছেও দুই দেশের যৌথ সামরিক উপস্থিতি বাড়তে দেখা যাচ্ছে। গত বছর চীনের চারটি কোস্ট গার্ড জাহাজ এবং রাশিয়ার দুটি বর্ডার গার্ড জাহাজ বেরিং সাগরে টহল দেয়। বিষয়টি মার্কিন কোস্ট গার্ড নিশ্চিত করে। এ মাসের শুরুতে তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-সংলগ্ন মেরু সাগরে চীনের পাঁচটি গবেষণা জাহাজের ওপর নজরদারি চলছে।
এছাড়া উত্তর আমেরিকার আকাশ সুরক্ষা দপ্তর (NORAD) আলাস্কার আকাশসীমায় অন্তত চারটি রুশ নজরদারি বিমান শনাক্ত করেছে। নোরাড জানিয়েছে, এ ধরনের টহল নিয়মিত হলেও সম্প্রতি অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, যা বিশ্লেষকদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। এ বছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অন্তত চারবার ওই অঞ্চলে রুশ বিমান টহল দেয়।

