অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা এবং ফ্রান্স ঘোষণা করেছে, তারা সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। এই পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে নতুন গতি এসেছে।
এখন পর্যন্ত ১৪৫টিরও বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বেশিরভাগ দেশ ১৯৮৮ সালে এই স্বীকৃতি দেয়, যখন প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল কাউন্সিল (পিএনসি) আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ঘোষণা করে। পরবর্তী তিন দশক ধরে আরও অনেক দেশ, বিশেষত পশ্চিমা দেশ বাদে, এই স্বীকৃতির তালিকায় যুক্ত হয়।
২০২৪ সালের শেষ দিকেও বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় এবং ক্যারিবিয়ান দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, আয়ারল্যান্ড, জ্যামাইকা, নরওয়ে এবং স্পেন। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস তখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছিলেন গাজার মানবিক বিপর্যয় বন্ধ করতে।
এবারের নতুন ঘোষণার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য শর্তসাপেক্ষে জানিয়েছে, যদি ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতি না মানে, তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে তার নিকটতম মিত্রদের থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে, বিশেষ করে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও সহায়তা সীমিত করার প্রশ্নে।
এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই স্বীকৃতির আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে “হামাসকে পুরস্কার” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন।
এই কূটনৈতিক তৎপরতা ঘটছে গাজায় চলমান খাদ্য সংকট ও মানবিক সহায়তা অবরোধের সমালোচনার মধ্যে। জাতিসংঘের সংস্থা ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এই পরিস্থিতিকে দুর্ভিক্ষের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে।

